জামুড়িয়া, পশ্চিম বর্ধমান -: অবৈধ বালি কারবারের তদন্তে নেমে ফের অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল জামুড়িয়ায়। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে নর্থ শিয়াড়সোল কোলিয়ারি এলাকার একটি পরিত্যক্ত আবাসন থেকে চারটি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র এবং সাত রাউন্ড জীবন্ত কার্তুজ উদ্ধার করেছে জামুড়িয়া থানার পুলিশ ও আসানসোল পুলিশ কমিশনারেটের গোয়েন্দা বিভাগের যৌথ দল।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অবৈধ বালি কারবার সংক্রান্ত একটি মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়ক হরেরাম সিংএর ছেলে প্রেমপাল সিংকে। বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে থাকা প্রেমপালকে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় অস্ত্র সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসে বলে তদন্তকারীদের দাবি। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই নর্থ শিয়াড়সোল কোলিয়ারি এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালানো হয়।
অভিযানের সময় একটি পরিত্যক্ত কোয়ার্টার থেকে উদ্ধার হয় চারটি আগ্নেয়াস্ত্র ও সাত রাউন্ড জীবন্ত কার্তুজ। অস্ত্র উদ্ধারের পর তদন্তের পরিধি আরও বাড়িয়েছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলি কোথা থেকে এল, কারা সেগুলি সরবরাহ করেছিল এবং কোনও অপরাধমূলক কাজে এগুলি ব্যবহার করা হয়েছিল কি না—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
একই সঙ্গে অস্ত্রের ক্রয়-বিক্রয় ও সরবরাহের সঙ্গে আরও কোনও ব্যক্তি বা চক্র যুক্ত রয়েছে কি না, সে বিষয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে। শিল্পাঞ্চলের অন্য কোথাও অবৈধ অস্ত্র মজুত রয়েছে কি না, সেই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না পুলিশ।
চারটি অস্ত্র ও সাত রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধারের পর প্রেমপাল সিংকে ফের আসানসোল আদালতে পেশ করা হয়। তদন্তের স্বার্থে তাকে আরও দশ দিনের পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তদন্তকারীদের ধারণা, জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত থাকলে অস্ত্রের উৎস এবং এর সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকজনের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে।
আসানসোল-দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযানের মধ্যেই এই উদ্ধারকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসি ধ্রুব দাস জানান, প্রেমপাল সিংকে পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের উৎস, অন্য কোথাও অস্ত্র মজুত রয়েছে কি না এবং এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না—সব দিক খতিয়ে দেখা হবে।
এদিকে, অবৈধ বালি কারবারের মামলার তদন্তের মধ্যেই অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় প্রেমপাল সিংএর বিরুদ্ধে তদন্ত আরও গুরুত্ব পেয়েছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্র কোনও অপরাধমূলক ঘটনায় ব্যবহৃত হয়েছিল কি না, কিংবা এর পিছনে কোনও বড় চক্রের যোগ রয়েছে কি না—তা জানতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয় বলে তদন্তকারী মহলের বক্তব্য।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
August 20, 2026
Rating:

No comments: