পায়ে হেঁটে হজযাত্রায় আসানসোলে ‘মারধর-দুর্ব্যবহারের’ অভিযোগ, গ্রেফতার যুবক; নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি দানিশ আজিজের
আসানসোল, ২৮ আগস্ট -: পায়ে হেঁটে হজযাত্রার উদ্দেশ্যে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে বেরিয়ে আসানসোলে এসে কথিত মারধর ও দুর্ব্যবহারের শিকার হওয়ার অভিযোগ তুললেন মুর্শিদাবাদের জলঙ্গি বিধানসভা এলাকার বাসিন্দা গুলাম মুস্তাফা। গত ২৬ আগস্ট আসানসোলের হাইওয়ে বাইপাস সংলগ্ন বিঘ্নেশ্বরা মার্বেলসের কাছে ঘটনাটি ঘটে বলে অভিযোগ। ঘটনার পর ২৭ আগস্ট কালিপাহাড়ি এলাকা থেকে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই দিন গুলাম মুস্তাফা হাইওয়ে বাইপাস দিয়ে যাওয়ার সময় এক যুবকের সঙ্গে তাঁর বচসা বাধে। এরপর তাঁকে মারধর ও দুর্ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ। পাশাপাশি তাঁর ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগও উঠেছে। যদিও অভিযোগের সবকটি বিষয় এখনও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
ঘটনাটি সামনে আসার পর বিষয়টি এআইএমআইএম নেতা দানিশ আজিজের নজরে আসে। তাঁর নেতৃত্বে দলের একটি প্রতিনিধি দল পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায়। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কোনও ধরনের উত্তেজনা বা সংঘাতের পথে না গিয়ে সাংবিধানিক ও আইনসম্মতভাবেই প্রশাসনের কাছে বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
পুলিশ তদন্ত শুরু করার পর ২৭ আগস্ট দুপুরে কালিপাহাড়ি এলাকায় অভিযুক্তের বাড়ি থেকে ওই যুবককে গ্রেফতার করা হয় বলে দলীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে। ঘটনার সময় কী হয়েছিল, বচসার সূত্রপাত কোথা থেকে এবং মারধর ও ধর্মীয় মন্তব্যের অভিযোগের সত্যতা কতটা—তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।
অভিযুক্তের গ্রেফতারের পর ২৮ আগস্ট সাংবাদিক বৈঠক করেন দানিশ আজিজ। সেখানে তিনি সংবিধান ও আইনের শাসনের প্রশ্নে সরব হন। তাঁর বক্তব্য, কোনও ব্যক্তি, সংগঠন বা রাজনৈতিক শক্তিই সংবিধানের ঊর্ধ্বে নয়। দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার, সম্মান ও নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার রয়েছে।
দানিশ আজিজ বলেন, ধর্ম, পোশাক, বিশ্বাস কিংবা ধর্মীয় যাত্রার কারণে কোনও ব্যক্তির সঙ্গে বৈষম্য বা দুর্ব্যবহার করা উচিত নয়। কোনও বিরোধ তৈরি হলে আইন নিজের হাতে না তুলে নিয়ে পুলিশ ও বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে তার সমাধান করা উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্য, “এই দেশে সংবিধানের চেয়ে বড় কেউ নেই। আইন সবার জন্য সমান। হিন্দু হোক, মুসলিম হোক, কাঁওয়ারিয়া হোক বা হজযাত্রী—প্রত্যেক নাগরিকের সম্মান, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে।”
ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তেরও দাবি জানিয়েছেন দানিশ আজিজ। অভিযোগের প্রতিটি দিক যথাযথভাবে যাচাই করে সত্যতা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানান তিনি। তবে অভিযুক্ত গ্রেফতার হলেও ঘটনার সম্পূর্ণ সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ। পুলিশি তদন্ত শেষ হলেই মারধর, দুর্ব্যবহার এবং ধর্মীয় মন্তব্য সংক্রান্ত অভিযোগের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে। এখন নজর রয়েছে তদন্তের পরবর্তী গতিপ্রকৃতি এবং মামলায় পুলিশের পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের দিকে।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
August 28, 2026
Rating:

No comments: