রানীগঞ্জ, পশ্চিম বর্ধমান -: রানীগঞ্জ শহরের ব্যস্ত তিলক রোডে বৃহস্পতিবার আচমকাই ভেঙে পড়ল প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ বছরের পুরনো একটি তিনতলা বাড়ি। কেডিয়া পরিবারের ওই বাড়িটি দীর্ঘদিন ধরেই জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। ঘটনার সময় রাস্তায় মানুষের আনাগোনা তুলনামূলক কম থাকায় বড়সড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর মেলেনি। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, আচমকা বিকট শব্দে বাড়িটির একটি বড় অংশ ধসে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে গোটা এলাকা ধুলোর চাদরে ঢেকে যায়। বাড়ি ভেঙে পড়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই আশপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, বাড়িটি বেশ কিছুদিন ধরেই বিপজ্জনক অবস্থায় ছিল। পূর্বে রানীগঞ্জ পুরসভার পক্ষ থেকে বাড়িটিকে বিপজ্জনক ঘোষণা করে সতর্কতামূলক লাল বোর্ড লাগানো হয়েছিল এবং বাড়িটি খালি করে দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। তবে পারিবারিক সম্পত্তি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে বাড়িটি ভেঙে ফেলার বিষয়টি কার্যকর করা সম্ভব হয়নি বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় রানীগঞ্জ থানার পুলিশ ও দমকল বিভাগের কর্মীরা। নিরাপত্তার স্বার্থে এলাকাটি ঘিরে দেওয়া হয়। বাড়িটির এখনও দাঁড়িয়ে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলি চিহ্নিত করে সেগুলি সরিয়ে ফেলার কাজ শুরু করা হয়।
এদিকে, এই ঘটনার পর শহরের অন্যান্য জরাজীর্ণ বাড়িগুলির নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, রানীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় এখনও বেশ কিছু পুরনো ও দুর্বল বাড়ি রয়েছে। সেগুলির অবস্থা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। প্রশাসনের তরফে বিপজ্জনক বাড়িগুলির ক্ষেত্রে নিয়ম অনুযায়ী কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, তা নিয়েও নজর রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। তাঁদের বক্তব্য, বড় কোনও দুর্ঘটনা ঘটার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ বাড়িগুলি চিহ্নিত করে যথাযথ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে ভবিষ্যতে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হবে।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
August 20, 2026
Rating:


No comments: