রানীগঞ্জ -: রানীগঞ্জ রেলস্টেশনের কাছে কয়েকদিন আগে রাতের অন্ধকারে ঘটে যাওয়া সংঘর্ষের ঘটনাকে ঘিরে প্রকাশিত বিভিন্ন দাবির প্রেক্ষিতে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল বিশ্ব হিন্দু পরিষদের রানীগঞ্জ প্রখণ্ড। রবিবার রানীগঞ্জের এনএসবি রোড সংলগ্ন স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার সামনে অবস্থিত বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে ঘটনার সঙ্গে তাদের সাংগঠনিক কোনও যোগ নেই বলে স্পষ্ট জানানো হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের রানীগঞ্জ প্রখণ্ডের সম্পাদক বিশ্বজিৎ গোরাই বলেন, সম্প্রতি ওই সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে এক ব্যক্তির বিশ্ব হিন্দু পরিষদের রানীগঞ্জ প্রখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকার দাবি সামনে এসেছে। তবে সংগঠনের পক্ষ থেকে সেই দাবি সরাসরি খারিজ করা হয়। তাঁর বক্তব্য, ওই ব্যক্তি অতীতে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন, কিন্তু বর্তমানে তাঁর সঙ্গে সংগঠনের কোনও আনুষ্ঠানিক বা সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই।
বিশ্বজিৎ গোরাই আরও জানান, একজন হিন্দু হিসেবে কেউ বিশ্ব হিন্দু পরিষদের আদর্শে বিশ্বাসী বা সংগঠনের সমর্থক হতে পারেন, কিন্তু শুধুমাত্র সেই কারণে তাঁকে সংগঠনের সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না। ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ব্যক্তিগত পরিচয় বা অবস্থানের সঙ্গে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সাংগঠনিক পরিচয়কে এক করে দেখার সুযোগ নেই বলেই দাবি সংগঠনের। সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ঘটনাটিকে ‘বিজেপি ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদ কর্মীদের সংঘর্ষ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলেও সাংবাদিক সম্মেলনে প্রসঙ্গ ওঠে। এ বিষয়ে বিশ্বজিৎ গোরাইয়ের দাবি, ঘটনার সঙ্গে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের রানীগঞ্জ প্রখণ্ডের কোনও সদস্যের প্রত্যক্ষ যোগ নেই। তাই ঘটনাটিকে ‘বিজেপি বনাম বিশ্ব হিন্দু পরিষদ’-এর সংঘর্ষ হিসেবে চিহ্নিত করা সঠিক নয় এবং এতে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।
তিনি বলেন, বিজেপি ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদ পৃথক সংগঠন হলেও উভয়েই একই ধরনের আদর্শ ও ভাবধারায় বিশ্বাসী। সেই কারণে দুই সংগঠনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা হিসেবে বিষয়টিকে তুলে ধরা বাস্তব পরিস্থিতিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করার সামিল। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংগঠনের পক্ষ থেকে এখনও প্রশাসনের কাছে কোনও লিখিত অভিযোগ বা আবেদন জানানো হয়নি বলেও জানান বিশ্বজিৎ গোরাই। তাঁর কথায়, বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা বিশ্ব হিন্দু পরিষদের উচ্চ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে মূলত একটি বিষয়ই স্পষ্ট করে দিতে চেয়েছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের রানীগঞ্জ প্রখণ্ড—রেলস্টেশন সংলগ্ন ওই সংঘর্ষের ঘটনার সঙ্গে তাদের সাংগঠনিক কোনও সম্পর্ক নেই। ফলে ব্যক্তিগত পরিচয়, রাজনৈতিক পরিচয় এবং সাংগঠনিক পরিচয়ের মধ্যে পার্থক্য বজায় রেখেই গোটা ঘটনাকে দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে সংগঠনের পক্ষ থেকে।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
August 16, 2026
Rating:

No comments: