চিনির দামে লাগাম টানতে রানীগঞ্জে প্রশাসনের অভিযান কালোবাজারি রুখতে গোডাউনে নজরদারি, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক টাস্কফোর্সের
যীশু হেমব্রম, রানীগঞ্জ, ২৯ আগস্ট: গত কয়েকদিন ধরে বাজারে হঠাৎ করে চিনির দাম বৃদ্ধিতে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। যে চিনি কিছুদিন আগেও কেজিপ্রতি প্রায় ৫০ টাকার আশপাশে বিক্রি হচ্ছিল, তা বর্তমানে বিভিন্ন বাজারে ৭০ টাকা কেজির কাছাকাছি দামে বিক্রি হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দাম বৃদ্ধির কারণ খতিয়ে দেখা এবং সাধারণ ক্রেতাদের স্বার্থে বাজারদর নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবার তৎপর হল রাজ্য প্রশাসন।
চিনির দাম বৃদ্ধি এবং বাজার পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। রাজ্য সরকারের নির্দেশে চিনির কালোবাজারি রোধ এবং খাদ্যসামগ্রীর মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন স্তরে টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবেই রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় চিনির গোডাউন ও বাজারে নজরদারি শুরু হয়েছে।
শনিবার তারই ছবি দেখা গেল পশ্চিম বর্ধমানের রানীগঞ্জ বাজার এলাকায়। এদিন আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসি সেন্ট্রাল ধ্রুব দাস এবং রানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক সুবীর কর্মকারের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশবাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে প্রশাসনিক আধিকারিকরা বিভিন্ন চিনির গোডাউনে পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনের সময় গোডাউনে মজুত চিনির পরিমাণ, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র এবং ব্যবসায়িক হিসাবপত্র খতিয়ে দেখা হয়। পাশাপাশি, বাজারে চিনির সরবরাহ ও বিক্রয়মূল্য নিয়েও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করেন প্রশাসনের আধিকারিকরা। নির্ধারিত বা ন্যায্য মূল্যের তুলনায় অতিরিক্ত দামে যাতে সাধারণ ক্রেতাদের চিনি কিনতে না হয়, সে বিষয়েও ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে মূলত নজর দেওয়া হচ্ছে—কোথাও কৃত্রিমভাবে চিনি মজুত করে বাজারে সরবরাহে কোনও ধরনের অনিয়ম হচ্ছে কি না, কিংবা অস্বাভাবিক দামে বিক্রির কোনও ঘটনা ঘটছে কি না। একইসঙ্গে গোডাউনের বৈধ কাগজপত্র এবং মজুত সংক্রান্ত তথ্যও যাচাই করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসি সেন্ট্রাল ধ্রুব দাস জানান, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী চিনির বাজারদর ও সরবরাহ পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। কেন চিনির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, তার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি কোনও ব্যবসায়ী যাতে নির্ধারিত বা ন্যায্য দামের তুলনায় অতিরিক্ত অর্থ গ্রাহকদের কাছ থেকে না নেন, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, গত কয়েকদিন ধরেই বিভিন্ন এলাকায় প্রশাসনের তরফে এই ধরনের পরিদর্শন ও নজরদারি চলছে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
প্রশাসনের এই তৎপরতায় আপাতত স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করছেন সাধারণ ক্রেতারা। তবে আগামী দিনে চিনির বাজারদর কোন দিকে যায়, সেই দিকেই এখন নজর রয়েছে ক্রেতা-বিক্রেতা থেকে প্রশাসন—সবার।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
August 29, 2026
Rating:


No comments: