পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এবার থেকে কোনও অপরাধের ঘটনা ঘটলে তদন্তকারী আধিকারিকদের অপেক্ষা করে প্রমাণ পরীক্ষার জন্য দূরের পরীক্ষাগারে পাঠাতে হবে না। বিশেষ এই ভ্যান সরাসরি ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নমুনা ও প্রমাণ সংগ্রহের পাশাপাশি সেগুলির প্রাথমিক পরীক্ষা এবং সংরক্ষণের কাজেও সহায়তা করবে। ফলে তদন্তের ক্ষেত্রে সময় যেমন বাঁচবে, তেমনই গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ নষ্ট বা পরিবর্তিত হওয়ার আশঙ্কাও কমবে।
এই বিশেষ উদ্যোগের সূচনাকে ঘিরে উপস্থিত ছিলেন আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের একাধিক পদস্থ আধিকারিক এবং বিভিন্ন থানার আইসি ও ওসিরা। তাঁদের মোবাইল ফরেনসিক ভ্যানটির বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে অবহিত করা হয়। অপরাধস্থল থেকে কীভাবে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে প্রমাণ সংগ্রহ করতে হবে, কীভাবে তা সুরক্ষিত রাখতে হবে এবং ঘটনাস্থলেই কী ধরনের প্রাথমিক পরীক্ষা করা সম্ভব—সেই বিষয়েও আধিকারিকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
জানা গিয়েছে, এই মোবাইল ফরেনসিক ভ্যানটি মোট ১৪ ধরনের বিশেষ ফরেনসিক সরঞ্জাম ও পরীক্ষার কিটে সজ্জিত। এর মধ্যে রয়েছে সাধারণ প্রমাণ সংগ্রহের কিট, ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের কিট, রক্ত পরীক্ষার কিট-সহ একাধিক অত্যাধুনিক বৈজ্ঞানিক সরঞ্জাম। অপরাধের ধরন অনুযায়ী ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নমুনা সংগ্রহে এই সরঞ্জামগুলি ব্যবহার করা হবে।
পুলিশের আধিকারিকদের মতে, অপরাধের তদন্তে বৈজ্ঞানিক প্রমাণের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। ঘটনাস্থল থেকেই প্রমাণ সংগ্রহ ও প্রাথমিক পরীক্ষা করা গেলে তদন্ত অনেক বেশি নির্ভুল ও কার্যকর হবে। একই সঙ্গে মামলার তদন্তে প্রমাণ-নির্ভর পদ্ধতিকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।
মোবাইল ফরেনসিক ভ্যান চালুর ফলে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের অপরাধ তদন্তে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়ল বলেই মনে করছেন পুলিশকর্তারা। তাঁদের আশা, এই পরিষেবার মাধ্যমে অপরাধের দ্রুত কিনারা করার পাশাপাশি আদালতে বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতে মামলাগুলিকেও আরও শক্তিশালী করে তোলা সম্ভব হবে।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
August 27, 2026
Rating:


No comments: