আসানসোল -: শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং অবৈধভাবে পার্কিং ফি আদায় বন্ধ করতে বড়সড় অভিযানে নামল আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের ট্রাফিক বিভাগ। হাটন রোড থেকে উষাগ্রাম পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে চলা এই অভিযানে একাধিক পার্কিং স্পট খতিয়ে দেখে বৈধ ও অবৈধ পার্কিং চিহ্নিত করা হয়। অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন ডিসি ট্রাফিক পিভিজি সতীশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, যেসব পার্কিং কর্তৃপক্ষ বৈধ নথিপত্র দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে, সেসব এলাকায় আপাতত সম্পূর্ণভাবে পার্কিং ফি আদায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষ সেখানে গাড়ি রাখতে পারবেন, কিন্তু কোনও অর্থ দিতে হবে না। অন্যদিকে, যেসব পার্কিং পরিচালকের কাছে বৈধ অনুমতি ও কাগজপত্র রয়েছে, তাদের আগের নিয়মেই পার্কিং চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
অভিযান চলাকালীন আসানসোল ইস্টার্ন রেলওয়ে স্কুলের সামনে একটি পার্কিং এলাকায় পৌঁছতেই চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অভিযোগ, পুলিশ পৌঁছানোর আগেই ওই পার্কিং পরিচালনাকারী বাপ্পা রায় এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। সেখানে কর্মরত রঞ্জন নামে এক ব্যক্তি জানান, দীর্ঘদিন ধরেই ওই পার্কিংটি অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছিল।
এই অভিযানের পর থেকেই হাটন রোড থেকে উষাগ্রাম পর্যন্ত একাধিক অবৈধ পার্কিং ব্যবসায়ীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই ইতিমধ্যেই নিজেদের কার্যকলাপ গুটিয়ে নিতে শুরু করেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে খবর। প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, অবৈধভাবে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা আদায় কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
প্রসঙ্গত, এর আগেই অবৈধ পার্কিং ফি নিয়ে সরব হয়েছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর সতর্কবার্তার পর প্রশাসনের এই কড়া পদক্ষেপকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল। পুলিশের দাবি, এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদারভাবে চলবে।
শহরবাসীর একাংশের মতে, এই উদ্যোগের ফলে সাধারণ মানুষের অযথা আর্থিক চাপ কমবে এবং শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থাও আরও নিয়ন্ত্রিত ও স্বচ্ছ হয়ে উঠবে।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
May 23, 2026
Rating:

No comments: