জামুড়িয়া -: মহান বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর ১২৭তম জন্মজয়ন্তী মঙ্গলবার তাঁর জন্মভূমি চুরুলিয়ায় গভীর শ্রদ্ধা, সাংস্কৃতিক আবেগ এবং উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে পালিত হল। একইসঙ্গে ঐতিহ্যবাহী ৪৬তম নজরুল মেলারও শুভ সূচনা করা হয়। গোটা চুরুলিয়া জুড়ে দিনভর ছিল উৎসবের আবহ, কবির স্মৃতিতে মুখরিত হয়ে ওঠে গ্রামের প্রতিটি প্রান্ত।
সকালে এক বর্ণাঢ্য প্রভাতফেরির মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। রঙিন ব্যানার, সাংস্কৃতিক ঝাঁকি এবং নজরুলগীতিতে সজ্জিত এই প্রভাতফেরির সূচনা করেন উদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। চুরুলিয়ার বিভিন্ন রাস্তা পরিক্রমা করে প্রভাতফেরি পৌঁছায় কবির সমাধিস্থলে, যেখানে শ্রদ্ধা ও সম্মানের সঙ্গে কবিকে স্মরণ করা হয়।
সমাধিস্থলে কবির ভাইপো আলি রেজা সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের আধিকারিক, সাহিত্যিক, শিল্পী এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। বক্তারা নজরুল ইসলামের সাহিত্য, তাঁর বিপ্লবী চেতনা এবং সমাজের প্রতি অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, নজরুল শুধুমাত্র বাংলার নন, তিনি সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশের সাংস্কৃতিক চেতনার প্রতীক।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। চুরুলিয়া ও আশপাশের এলাকা থেকে সকাল থেকেই বহু মানুষ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। প্রভাতফেরি এবং মেলাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় উৎসবের আবহ তৈরি হয়। গ্রামের অলিগলি থেকে মেলা প্রাঙ্গণ— সর্বত্রই ভেসে আসে নজরুলের গান ও কবিতার সুর।
আয়োজকদের দাবি, প্রতি বছরের মতো এবারও নজরুল জয়ন্তী ও নজরুল মেলাকে ঘিরে মানুষের উৎসাহ ছিল ব্যাপক। পুরো চুরুলিয়াকে আকর্ষণীয়ভাবে সাজানো হয়েছে এবং বিভিন্ন জায়গায় কবির লেখা ও ভাবধারা তুলে ধরা হয়েছে।
নজরুল মেলাকে ঘিরে আগামী কয়েকদিন কবির জীবন, সাহিত্য ও সংগীত নিয়ে আলোচনা সভা, কবি সম্মেলন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং সংগীত পরিবেশনার আয়োজন করা হবে। মেলা প্রাঙ্গণে নজরুলগীতি, কবিতা পাঠ, নৃত্যনাট্য এবং লোকসংস্কৃতির বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কবির স্মৃতিকে জীবন্ত করে তোলা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, চুরুলিয়া শুধুমাত্র একটি গ্রাম নয়, এটি বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির এক ঐতিহাসিক ঐতিহ্য। নজরুল জয়ন্তীর সময় প্রতি বছর দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য মানুষ এখানে এসে বিদ্রোহী কবিকে শ্রদ্ধা জানান।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
May 26, 2026
Rating:

No comments: