রানীগঞ্জ -: বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই প্রখর রৌদ্রের তীব্রতায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে শিল্পাঞ্চল রানীগঞ্জ। দিনের সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে তাপমাত্রার পারদ। তীব্র দাবদাহ ও অস্বস্তিকর গরমে কার্যত নাজেহাল হয়ে পড়েন সাধারণ মানুষ। দুপুর গড়াতেই শহরের রাস্তাঘাট অনেকটাই জনশূন্য হয়ে পড়ে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অধিকাংশ মানুষকেই বাড়ির বাইরে বের হতে দেখা যায়নি।
আবহাওয়া সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন রানীগঞ্জে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছয়। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় অনুভূত তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি পায়। দুপুরের দিকে গরম হাওয়ার দাপটে জনজীবন কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়ে।
এই অসহনীয় গরম থেকে সামান্য স্বস্তি পেতে রানীগঞ্জের একটি পুকুরে স্নানে মেতে ওঠে কয়েকজন কিশোর। প্রখর রৌদ্র উপেক্ষা করেই তারা পুকুরে ঝাঁপিয়ে পড়ে। কেউ সাঁতার কাটছে, কেউ বা জলে ডুব দিয়ে শরীর ঠান্ডা করার চেষ্টা করছে। দাবদাহের হাত থেকে রেহাই পেতে তাদের এই জলকেলির দৃশ্য নজর কেড়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদেরও।
স্থানীয়দের একাংশের বক্তব্য, সকাল থেকেই বাইরে বের হওয়া অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে উঠেছে। রাস্তায় বেরোলেই গরম হাওয়ার তীব্র ঝাপটা অনুভূত হচ্ছে। ফলে বহু মানুষই গরম থেকে সাময়িক স্বস্তি পেতে জলাশয়ের আশ্রয় নিচ্ছেন।
এদিন শহরের বাজার এলাকা, বাসস্ট্যান্ড ও অন্যান্য জনবহুল এলাকায় মানুষের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলকভাবে কম। অন্যদিকে ঠান্ডা পানীয়, শরবত, লস্যি ও ডাবের জলের দোকানগুলিতে লক্ষ্য করা যায় উপচে পড়া ভিড়। বিশেষ করে দিনমজুর, টোটো চালক ও শ্রমজীবী মানুষের দুর্ভোগ ছিল সবচেয়ে বেশি।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিন দক্ষিণবঙ্গের পশ্চিমাঞ্চলে এই গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়া বজায় থাকতে পারে। যদিও কোথাও কোথাও কালবৈশাখীর সম্ভাবনার ইঙ্গিত মিলেছে, তবুও অবিলম্বে দাবদাহ থেকে স্বস্তি মেলার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ বলেই মনে করছেন সাধারণ মানুষ।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
May 21, 2026
Rating:

No comments: