স্বাধীনতার পর নজিরবিহীন ফল, পশ্চিম বর্ধমানে ন’টি আসনেই বিজেপির জয়—জেলাজুড়ে উল্লাস, পরাজিত মন্ত্রী-সহ মেয়র
আসানসোল -: স্বাধীনতার পর এই প্রথম পশ্চিম বর্ধমান জেলায় সমস্ত বিধানসভা আসনে একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করল বিজেপি। জেলার ন’টি আসনেই বিপুল ভোটে জয় পেয়ে গেরুয়া শিবিরে উৎসবের আবহ, অন্যদিকে ভরাডুবি তৃণমূল কংগ্রেসের। পরাজয় স্বীকার করেছেন রাজ্যের মন্ত্রী থেকে শুরু করে একাধিক হেভিওয়েট নেতা ও মেয়র।
সোমবার সকাল ৮টা থেকে আসানসোল ও দুর্গাপুরের গণনা কেন্দ্রে শুরু হয় ভোটগণনা। প্রথম রাউন্ড থেকেই এগিয়ে থাকতে দেখা যায় বিজেপি প্রার্থীদের। ফল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই প্রার্থী, নেতা ও কর্মী-সমর্থকরা গেরুয়া আবির মেখে এবং বাজি ফাটিয়ে বিজয় উৎসবে মেতে ওঠেন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, গত বিধানসভা নির্বাচনে জেলার ৯টি আসনের মধ্যে ৬টি ছিল তৃণমূলের দখলে এবং ৩টি ছিল বিজেপির। তবে এবারের নির্বাচনে সম্পূর্ণ চিত্রটাই বদলে যায়। একটিও আসন নিজেদের দখলে রাখতে পারেনি তৃণমূল কংগ্রেস।
ফলাফলে দেখা যায়, আসানসোল দক্ষিণ কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পাল প্রায় ৪০,৮৩৯ ভোটে জয়লাভ করেন। আসানসোল উত্তরে রাজ্যের মন্ত্রী মলয় ঘটককে প্রায় ১১,৬১৫ ভোটে পরাজিত করে জয় ছিনিয়ে নেন বিজেপির কৃষ্ণেন্দু মুখার্জি।
বারাবনি কেন্দ্রে তৃণমূলের হেভিওয়েট প্রার্থী বিধান উপাধ্যায় বিজেপির অরিজিৎ রায়ের কাছে প্রায় ১১,৪২০ ভোটে পরাজিত হন।
পাণ্ডবেশ্বরের হাইভোল্টেজ কেন্দ্রে বিজেপির জিতেন্দ্র তেওয়ারি অল্প ব্যবধানে, প্রায় ১,৩৯৮ ভোটে জয়লাভ করেন নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে।
জামুড়িয়ায় বিজেপি প্রার্থী বিজন মুখার্জির কাছে প্রায় ২২,৫০০ ভোটে হার স্বীকার করেন তৃণমূলের হরেরাম সিং।
এছাড়াও রানীগঞ্জে প্রায় ১৭,৭৮৬ ভোটে জয় পান বিজেপির পার্থ ঘোষ। কুলটিতেও বিজেপি প্রার্থী অজয় পোদ্দার উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে জয়ী হন। একই চিত্র দেখা যায় দুর্গাপুর পূর্ব ও পশ্চিম কেন্দ্রেও।
মোটের উপর, এবারের নির্বাচনে পশ্চিম বর্ধমানে ‘গেরুয়া ঝড়ে’ কার্যত মুছে যায় তৃণমূল কংগ্রেসের উপস্থিতি। গ্রাম থেকে শহর—সবত্রই এখন বিজেপি সমর্থকদের উচ্ছ্বাস চোখে পড়ার মতো।
পরাজয়ের পর রাজ্যের মন্ত্রী মলয় ঘটক বলেন, “জেলায় দলের খারাপ ফল নিয়ে দলীয়ভাবে পর্যালোচনা করা হবে।”
অন্যদিকে বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান, “দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, স্বজনপোষণ ও সাধারণ মানুষের প্রতি অবহেলার জবাবই মানুষ ভোটের মাধ্যমে দিয়েছেন।”
জেলার রাজনৈতিক মানচিত্রে এই ফলাফল এক ঐতিহাসিক মোড় এনে দিল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
May 04, 2026
Rating:


No comments: