আসানসোল, নিজস্ব সংবাদদাতা -: পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টির উল্লেখযোগ্য সাফল্যের পর সারা রাজ্যের পাশাপাশি আসানসোলেও দেখা গেল উৎসবের আবহ। তবে এই বিজয়োৎসব শুধুমাত্র রাজনৈতিক জয়ের আনন্দে সীমাবদ্ধ থাকেনি—এর সঙ্গে জড়িয়ে ছিল দলীয় কর্মীদের আত্মত্যাগ, সংগ্রাম ও আবেগের স্মৃতি।
আসানসোল বাজারে অবস্থিত বিজেপি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে দলীয় নেতা শঙ্কর চৌধুরী রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে নিহত কর্মীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, এই সাফল্য কেবল একটি নির্বাচনী ফল নয়, বরং দীর্ঘদিনের আন্দোলন, পরিশ্রম ও আত্মত্যাগের প্রতিফলন।
তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন,“যাঁরা দলের জন্য লড়াই করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের আত্মবলিদান কখনও ভোলা যাবে না। এই জয় তাঁদেরই উৎসর্গ করা হল।”
তাঁর বক্তব্য চলাকালীন উপস্থিত বহু কর্মী আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। একদিকে ছিল জয়ের উচ্ছ্বাস, অন্যদিকে শহিদ কর্মীদের স্মরণে নীরব শ্রদ্ধা—দুইয়ের মিশেলে তৈরি হয় এক অন্যরকম পরিবেশ।
সাংবাদিক বৈঠকে শঙ্কর চৌধুরী দাবি করেন, রাজ্যে পরিবর্তনের পক্ষে মানুষের সমর্থন ক্রমশ বাড়ছে এবং উন্নয়ন ও শান্তির নতুন বার্তা সামনে নিয়ে এগোতে চায় বিজেপি। তিনি বলেন, মানুষের নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য।
একইসঙ্গে তিনি রাজ্যের নাগরিকদের শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে সহযোগিতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখার বার্তাও। তিনি বলেন, “সমস্ত বিভেদ ভুলে সাধারণ মানুষের স্বার্থে একসঙ্গে এগিয়ে চলাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”
এই কর্মসূচিতে উপস্থিত বহু কর্মী তাঁদের রাজনৈতিক সংগ্রামের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন। কেউ তুলে ধরেন আন্দোলনের কঠিন সময়ের কথা, কেউ আবার সহকর্মীদের হারানোর বেদনার স্মৃতি স্মরণ করেন। ফলে গোটা অনুষ্ঠান জুড়ে আবেগ ও রাজনৈতিক বার্তার এক অনন্য মেলবন্ধন দেখা যায়।
রাজনৈতিক মহলের মতে, আসানসোলের এই কর্মসূচি শুধুমাত্র বিজয় উদযাপন নয়, বরং সংগঠনের শক্তি ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা। সব মিলিয়ে, আসানসোলে বিজেপির এই আয়োজন জয়ের আনন্দের পাশাপাশি ত্যাগ, আবেগ ও ভবিষ্যতের প্রত্যাশার এক অনন্য প্রতিফলন হয়ে উঠেছে।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
May 07, 2026
Rating:

No comments: