যীশু হেমব্রম, রানীগঞ্জ -: শিক্ষার আলো ছড়িয়ে আগামী প্রজন্মকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই রবিবার রানীগঞ্জে অনুষ্ঠিত হল এক অনন্য সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। রানীগঞ্জের ষষ্ঠী গড়িয়া এলাকার জায়কা রেস্টুরেন্টে ‘সন্ধান কোচিং সেন্টার’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফল করা মেধাবী পড়ুয়াদের সংবর্ধনা জানানো হয়। মেমেন্টো ও শংসাপত্র তুলে দিয়ে তাঁদের সম্মানিত করা হয় উপস্থিত অতিথিদের হাত দিয়ে।
অনুষ্ঠান ঘিরে পড়ুয়া ও অভিভাবকদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ ও আবেগঘন পরিবেশ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী স্বপ্নীল মুখার্জি, বাপ্পা চট্টোপাধ্যায়, বাতশা চট্টোপাধ্যায়, জ্যাকি বাধানী-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ‘সন্ধান কোচিং সেন্টার’-এর প্রতিষ্ঠাতা সিদ্ধার্থ সিং জানান, প্রায় দুই বছর আগে পাটনা থেকে রানীগঞ্জে এসে তিনি উপলব্ধি করেন যে, বিশেষ করে হিন্দি মাধ্যমের বহু পড়ুয়া পড়াশোনার ক্ষেত্রে সঠিক দিশা ও উপযুক্ত গাইডেন্সের অভাবে পিছিয়ে পড়ছে। সেই সমস্যা দূর করতেই তিনি বিশেষ শিক্ষণ পদ্ধতি ও আলাদা সিলেবাসভিত্তিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা চালু করেন।
তিনি দাবি করেন, তাঁদের কোচিং সেন্টারে এমনভাবে পাঠদান করা হয় যাতে মাধ্যমিকের পড়ুয়ারা ৬০ শতাংশের বেশি এবং উচ্চমাধ্যমিকের পড়ুয়ারা ৭০ শতাংশের বেশি নম্বর অর্জনে সক্ষম হয়। তাঁর কথায়, “এই বছরের বোর্ড পরীক্ষার ফলাফলই প্রমাণ করছে যে সঠিক পরিকল্পনা, নিয়মিত অনুশীলন এবং আধুনিক শিক্ষণ পদ্ধতির মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের সাফল্যের পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।”
এদিন সংবর্ধিত পড়ুয়ারাও নিজেদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেয়। তাঁদের বক্তব্য, সিদ্ধার্থ সিং অত্যন্ত সহজ ও কার্যকর পদ্ধতিতে পাঠদান করেন, ফলে কঠিন বিষয়ও সহজে বোঝা যায়। নিয়মিত অনুশীলন, শিক্ষকদের ব্যক্তিগত নজরদারি এবং সঠিক দিকনির্দেশনাই তাঁদের ভালো ফলের মূল চাবিকাঠি বলে জানায় পড়ুয়ারা।
অন্যদিকে, অনুষ্ঠানে উপস্থিত কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী স্বপ্নীল মুখার্জি ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশ্যে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য রাখেন। তিনি উচ্চশিক্ষার প্রতি আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান এবং ভবিষ্যতে দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করার বিষয়ে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেন। তাঁর বক্তব্যে অনুপ্রাণিত হয়ে পড়ুয়াদের মধ্যে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে নতুন উদ্দীপনা দেখা যায়।
শিক্ষা ও মেধার বিকাশে ‘সন্ধান কোচিং সেন্টার’-এর এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন উপস্থিত অভিভাবক ও বিশিষ্টজনেরা। তাঁদের মতে, শুধুমাত্র নম্বরের প্রতিযোগিতা নয়, পড়ুয়াদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে সঠিক পথে এগিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও এই ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
May 24, 2026
Rating:


No comments: