কলকাতা, ২৮ মে -: পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির আবহে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বাড়ছে তৎপরতা। বিধানসভায় এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বিরোধী দলের স্বীকৃতি না পাওয়া, পাশাপাশি কয়েকজন বিধায়কের ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তৈরি হওয়া জল্পনার মধ্যেই রবিবার তৃণমূল কংগ্রেসের বিধানমণ্ডলীয় দলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডাকা হয়েছে।
দলীয় সূত্রের খবর, বৈঠকে সমস্ত বিধায়কের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কলকাতায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনের কনফারেন্স রুমেই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গিয়েছে।
তৃণমূল বিধায়কদলের নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, দলের প্রত্যেক বিধায়ককে বৈঠকে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও বৈঠকে যোগ দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই বৈঠক থেকেই বিধায়কদের উদ্দেশে ঐক্যবদ্ধ থাকার বার্তা দিতে পারেন মমতা।
৮৩ বছর বয়সে বিধানমণ্ডলীয় দলের নেতৃত্বের দায়িত্ব পাওয়া শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের কথায়, “এই সময় সংগঠনকে একজোট রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”
সাম্প্রতিক সময়ে দলের অভ্যন্তরে একাধিক ঘটনাকে ঘিরে জোর রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে। দিল্লির পুরনো বঙ্গভবনে তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সাক্ষাৎ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা তৈরি হয়। যদিও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় পরে দাবি করেন, সেটি শুধুমাত্র সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল।
এছাড়াও, বিধানসভায় স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসুর ঘরে কয়েকজন বিধায়কের উপস্থিতি ও বৈঠক নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে রাজনৈতিক মহলে। অন্যদিকে, বুধবার স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ না হওয়ায় শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় ও কুণাল ঘোষ বিধানসভা চত্বরে ধর্নায় বসেন, যা নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ায়।
তৃণমূল সূত্রের খবর, রবিবারের বৈঠকে সংগঠনকে আরও মজবুত করা, বিধায়কদের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখা এবং বিধানসভায় বিরোধী দলের মর্যাদা, বিধায়কদের জন্য আলাদা কক্ষ বরাদ্দ-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কৌশল নির্ধারণ করা হতে পারে।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
May 28, 2026
Rating:

No comments: