সিন্ডিকেট ও তোলাবাজির অভিযোগে ফুঁসছে রানীগঞ্জের কয়লা ব্যবসায়ীরা, ভয়মুক্ত পরিবেশের দাবিতে সরব ডিও হোল্ডাররা
নিজস্ব সংবাদদাতা, রানীগঞ্জ -: রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এবার শিল্পাঞ্চলগুলিতে দীর্ঘদিনের কথিত সিন্ডিকেট রাজ, তোলাবাজি ও অবৈধ আদায়ের বিরুদ্ধে সরব হতে শুরু করেছেন কয়লা ব্যবসায়ীরা। শুক্রবার রানীগঞ্জের পাঞ্জাবি মোড় এলাকায় কোল ট্রেডার্স ইউনিয়নের উদ্যোগে ইসিএল-এর ডিও হোল্ডারদের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত শতাধিক কয়লা ব্যবসায়ী কোলিয়ারি থেকে কয়লা উত্তোলনে বাধা, অবৈধ অর্থ আদায় এবং তোলাবাজির অভিযোগ তুলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কয়লা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন মহলকে নানা অজুহাতে অতিরিক্ত টাকা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। টাকা না দিলে কোলিয়ারিতে কাজ বন্ধ করে দেওয়া, পরিবহণ আটকে দেওয়া কিংবা কয়লা উত্তোলনে বাধা সৃষ্টি করার মতো ঘটনা ঘটছে বলেও অভিযোগ ওঠে বৈঠকে।
প্রবীণ কয়লা ব্যবসায়ী সতীশ খেমকা বলেন, তাঁদের পরিবার প্রায় ৬০ বছর ধরে কয়লা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত, কিন্তু গত কয়েক বছরের মতো এত খারাপ পরিস্থিতি তিনি আগে কখনও দেখেননি। তাঁর দাবি, প্রথমদিকে ‘সহযোগিতা’ বা ‘খুশি’র নামে সামান্য অর্থ নেওয়া হলেও পরে তা বড় আকারের অবৈধ তোলাবাজিতে পরিণত হয়েছে। এর ফলে ব্যবসায়ীরা একদিকে যেমন আর্থিক চাপে পড়ছেন, অন্যদিকে মানসিকভাবেও আতঙ্কের মধ্যে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন।
বৈঠকে আরও অভিযোগ ওঠে, গত কয়েক দিন ধরে একাধিক কোলিয়ারিতে কয়লা উত্তোলনের কাজ বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। কয়েকজন ব্যবসায়ীর দাবি, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও তাঁদের অনুগামীরা কোলিয়ারিতে গিয়ে কাজ বন্ধ করিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করছেন। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও নিশ্চিত করা হয়নি।
ব্যবসায়ীদের মতে, রানীগঞ্জের কয়লা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গুণগত মানের জন্য পরিচিত হলেও অবৈধ খরচ ও তোলাবাজির কারণে কয়লার উৎপাদন ব্যয় ক্রমশ বেড়ে যাচ্ছে। এর জেরে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অন্য রাজ্যের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন। পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা বড় সংকটে পড়বেন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ব্যবসায়ীরা নতুন প্রশাসনের কাছে ভয়মুক্ত ও স্বচ্ছ ব্যবসায়িক পরিবেশের দাবি জানান। একইসঙ্গে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, খুব শীঘ্রই ডিও হোল্ডারদের আরও একটি বৃহত্তর বৈঠক ডেকে পুলিশ কমিশনারেট ও জেলা প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হবে। সেখানে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, কোলিয়ারিতে নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং অবাধে ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হবে।
এই বৈঠকে পবন কেজরিওয়াল, সৌরভ আগরওয়াল, সঞ্জয় তোদি, রাজা সাও-সহ বহু কয়লা ব্যবসায়ী ও ডিও হোল্ডার উপস্থিত ছিলেন। ব্যবসায়ীরা একজোট হয়ে অবৈধ তোলাবাজি ও কথিত সিন্ডিকেট ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেন।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
May 09, 2026
Rating:

No comments: