অমৃতনগরে তৃণমূল নেতার গোডাউন থেকে উদ্ধার বিপুল অবৈধ ডিজেল, ইসিএল কোয়ার্টার দখল ও সরকারি সামগ্রী মজুতের অভিযোগে চাঞ্চল্য
নিজস্ব প্রতিনিধি, রানীগঞ্জ -: পশ্চিম বর্ধমানের রানীগঞ্জ থানার অন্তর্গত অমৃতনগর কোলিয়ারি সংলগ্ন এলাকায় শনিবার এক চাঞ্চল্যকর অভিযানে তৃণমূল কংগ্রেস নেতা তথা ইসিএল কর্মী মোহাম্মদ সাবিরের গোডাউন থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ডিজেল উদ্ধার হওয়ায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাস্থলে রানীগঞ্জ থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী, কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান এবং ইসিএলের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা উপস্থিত থেকে গোটা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
অভিযোগ, অভিযানের সময় গোডাউনের ভিতরে একাধিক ড্রামে ভরা ডিজেল উদ্ধার হয়। পাশাপাশি সেখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায় তৃণমূল কংগ্রেসের পতাকা এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের লোগোযুক্ত ত্রিপল। এত বিপুল পরিমাণ ডিজেল কোথা থেকে এল এবং কী উদ্দেশ্যে মজুত করা হয়েছিল, তা নিয়ে এলাকাজুড়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, মোহাম্মদ সাবির দীর্ঘদিন ধরে ইসিএলের কর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ফলে উদ্ধার হওয়া ডিজেলের উৎস নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অনেকেরই প্রশ্ন, ইসিএলের সম্পদ চুরির সঙ্গে কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
অভিযান চলাকালীন আরও বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে আসে। ইসিএল কর্তৃপক্ষের নজরে পড়ে, মোহাম্মদ সাবিরের বিরুদ্ধে অমৃতনগর এলাকায় একাধিক ইসিএল কোয়ার্টার অবৈধভাবে দখল করে রাখার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ওই কোয়ার্টারগুলি নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হত।
ইসিএলের দখলমুক্ত করা ওই কোয়ার্টারগুলির ভিতর থেকে উদ্ধার হয়েছে বস্তাবন্দি শীতের কম্বল, শাড়ি এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের লোগোযুক্ত ত্রিপল। এই সামগ্রীগুলি কীভাবে সেখানে এল এবং কেন মজুত রাখা হয়েছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এলাকাবাসীর একাংশের অভিযোগ, গরিব ও দুস্থ মানুষের জন্য বরাদ্দ সরকারি সামগ্রী ব্যক্তিগতভাবে মজুত করে রাখা হয়েছিল।
ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত মোহাম্মদ সাবির পলাতক বলে জানা গিয়েছে। রানীগঞ্জ থানা ও নিমচা ফাঁড়ির পুলিশ যৌথভাবে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
এদিকে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ইসিএলের আধিকারিকরা অবৈধভাবে দখল করে রাখা সমস্ত কোয়ার্টার পুনরুদ্ধার করে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন।
এ প্রসঙ্গে অমৃতনগর কোলিয়ারির এজেন্ট দীপক ক্ষেওলে সাংবাদিকদের জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরই ইসিএল কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। সেখানে বিপুল পরিমাণ ডিজেল ও কেরোসিন ভর্তি ড্রাম উদ্ধার হয়। পাশাপাশি ইসিএলের একাধিক কোয়ার্টার অবৈধভাবে দখল ও ব্যবহারের অভিযোগেরও সত্যতা মিলেছে। ইতিমধ্যেই সমস্ত কোয়ার্টার দখলমুক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, “মোহাম্মদ সাবির ইসিএলের একজন কর্মী। কীভাবে এবং কেন এই ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তিনি জড়িত হলেন, তা তদন্ত করে দেখা হবে।”
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা অভিযুক্ত তৃণমূল নেতার অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি তুলেছেন। অন্যদিকে, এই ঘটনায় প্রশাসন ও তদন্তকারী সংস্থাগুলির ভূমিকার দিকেও নজর রয়েছে সাধারণ মানুষের।
বর্তমানে উদ্ধার হওয়া ডিজেল, সরকারি সামগ্রী এবং ইসিএল সম্পত্তি দখলের অভিযোগ ঘিরে তদন্ত এগোচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
May 30, 2026
Rating:


No comments: