রাননীগঞ্জ রামনবমী হিংসা: বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি ভিএইচপির নতুন সরকারের কাছে সিট গঠন ও বিচার বিভাগীয় কমিশনের আবেদন
যীশু হেমব্রম, রানীগঞ্জ -: রাজ্যে বিজেপির নতুন সরকার গঠনের পর ফের আলোচনায় উঠে এল ২০১৮ সালের রানীগঞ্জ রামনবমী হিংসার ঘটনা। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি)-র পশ্চিম বর্ধমান জেলা সভাপতি মণীশ শর্মা নতুন সরকারের কাছে ওই ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
ভিএইচপি নেতৃত্বের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যে চলা তুষ্টিকরণ ও দমনমূলক রাজনীতির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ গণতান্ত্রিক রায় দিয়েছেন। বিজেপিকে ক্ষমতায় এনে মানুষ শুধু সরকার পরিবর্তন নয়, ন্যায়বিচার, নিরাপত্তা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেছেন বলে দাবি সংগঠনের।
মণীশ শর্মার অভিযোগ, ২০১৮ সালে রানীগঞ্জে রামনবমী উপলক্ষে বের হওয়া একটি শান্তিপূর্ণ শোভাযাত্রার উপর হামলা চালানো হয়। তাঁর দাবি, ইট-পাথর ও বোমা নিক্ষেপের ঘটনায় বহু মানুষ আহত হন এবং কয়েকজনের মৃত্যুও হয়। পাশাপাশি বিস্ফোরণে এক উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিক গুরুতর জখম হয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ভিএইচপি নেতার আরও অভিযোগ, ঘটনার প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং হিন্দু সংগঠনের কর্মী ও রামভক্তদের উপর প্রশাসনিক চাপ ও হয়রানি চালানো হয়েছিল বলে দাবি তাঁর।
ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠনের দাবি তুলেছে ভিএইচপি। সংগঠনের পক্ষ থেকে একজন সৎ ও নিরপেক্ষ আইপিএস আধিকারিকের নেতৃত্বে তদন্ত পরিচালনার পাশাপাশি বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠনের আবেদনও জানানো হয়েছে।
মণীশ শর্মা বলেন, “এখন সময় বদলেছে। রাজ্যে এমন সরকার এসেছে, যার কাছে মানুষের প্রত্যাশা—তারা যেন কোনও ভয় বা বাধা ছাড়াই নিজেদের ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারেন।”
তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে সনাতনী সমাজ ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে। খুব শীঘ্রই এই সমস্ত দাবিকে সামনে রেখে ভিএইচপি ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলি রাজ্য সরকারের কাছে লিখিত স্মারকলিপি জমা দেবে।
এদিকে ভিএইচপির এই দাবিকে ঘিরে রানীগঞ্জ-সহ গোটা পশ্চিম বর্ধমান জেলায় রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ২০১৮ সালের রামনবমী হিংসার ঘটনা আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
May 08, 2026
Rating:

No comments: