সভামঞ্চ থেকে বক্তারা বর্তমান শ্রমিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁদের অভিযোগ, দেশে ক্রমশ বাড়ছে কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা, শ্রমিকরা বঞ্চিত হচ্ছেন ন্যায্য মজুরি থেকে এবং সামাজিক সুরক্ষার ব্যবস্থাও দুর্বল হয়ে পড়ছে। অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা সত্ত্বেও শ্রমিকদেরই আজ সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে হচ্ছে বলে দাবি করেন বক্তারা।
কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন শ্রম কোডের বিরুদ্ধেও তীব্র আক্রমণ শোনা যায় সভা থেকে। বাম নেতা পার্থ মুখার্জি বলেন, এই শ্রম আইনগুলি শ্রমিক-বিরোধী এবং তা কার্যকর হলে শ্রমিকদের অধিকার খর্ব হবে। তাঁর অভিযোগ, এর ফলে বড় কর্পোরেট সংস্থাগুলি বাড়তি সুবিধা পাবে, আর শ্রমিকদের কাজের সময়, নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তিনি আরও দাবি করেন, শ্রমিকদের কণ্ঠস্বর দমনের চেষ্টা চলছে। তবে বাম দল ও ট্রেড ইউনিয়নগুলি সেই পরিস্থিতিতে নীরব থাকবে না বলেও স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন তিনি। শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে অধিকারের লড়াই জোরদার করার আহ্বান জানান।
অন্যান্য বক্তারাও একই সুরে কেন্দ্রের নীতির সমালোচনা করেন। তাঁদের মতে, শ্রমিক দিবস কেবল আনুষ্ঠানিক উদযাপনের দিন নয়, এটি সংগ্রাম, ঐক্য ও অধিকারের প্রতীক। শ্রমিক স্বার্থে কোনও আপস করা হবে না বলেও বার্তা দেন তাঁরা।
দিনভর কর্মসূচিতে শ্রমিক ঐক্যের পক্ষে জোরালো স্লোগান ওঠে এবং শ্রম আইন সংশোধনের দাবিতে সরব হন অংশগ্রহণকারীরা। আন্দোলনের আবহে কার্যত উত্তাল হয়ে ওঠে আসানসোল।
নেতৃত্বের তরফে জানানো হয়েছে, আগামী দিনে শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবি নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটা হবে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি আরও জোরদার করার ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
May 01, 2026
Rating:

No comments: