মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কর্মসূচির সূচনায় ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই দিনটি শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতা নয়—এটি মাতৃভাষা, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয় রক্ষার সংগ্রামের প্রতীক। নেতৃত্বের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বার্নপুরের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলিকে বন্ধ করে বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে, যা এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
বিক্ষোভকারীদের মতে, বার্নপুর বয়েজ ও গার্লস স্কুল শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, বরং এলাকার শিক্ষাগত ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। এই স্কুল গুলি বন্ধ বা বেসরকারিকরণ হলে সাধারণ পরিবারের পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাদের অভিযোগ, স্থানীয় বাঙালি সমাজের মতামত দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত হচ্ছে। একই সঙ্গে বার্নপুরের শিল্প-ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িত স্মৃতি ও অবদান ধীরে ধীরে মুছে ফেলার প্রচেষ্টাও চলছে বলে দাবি করা হয়।
মাতৃভাষা দিবসে বার্নপুরের ডিআইসি টানেল গেট সংলগ্ন এলাকায় প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। “শুধু উৎসব নয়, সংগ্রামও জরুরি”—এই স্লোগানে মুখর ছিল সমাবেশস্থল। জেলা সম্পাদক অক্ষয় বন্দ্যোপাধ্যায় সহ বিভিন্ন বিধানসভা এলাকার সম্পাদক ও সংগঠনের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা স্পষ্ট ভাষায় জানান, এই আন্দোলন কেবল একটি স্কুল রক্ষার নয়—এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক পরিচয় রক্ষার লড়াই। তাদের ঘোষণা, স্কুল বন্ধ বা বেসরকারিকরণের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
মাতৃভাষা দিবসে আয়োজিত এই প্রতিবাদ কর্মসূচি বার্নপুরে শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক পরিচয় নিয়ে বাড়তে থাকা অসন্তোষ কেই সামনে নিয়ে এল। এখন দেখার, প্রশাসন এই বিষয়ে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং স্কুল গুলির ভবিষ্যৎ নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
February 21, 2026
Rating:


No comments: