রানীগঞ্জে নিষ্ক্রিয় এফপিও পুনরুজ্জীবনের উদ্যোগ এনসিডিসি-র আঞ্চলিক অধিকর্তা নিরঞ্জন সিনহার নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ সভা, দ্রুত সক্রিয় করার আশ্বাস
রানীগঞ্জ -: রানিগঞ্জ কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের সভাগৃহে বৃহস্পতিবার এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সভার নেতৃত্ব দেন National Cooperative Development Corporation (এনসিডিসি)-র আঞ্চলিক অধিকর্তা শ্রী নিরঞ্জন সিনহা। এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল রানিগঞ্জে নিবন্ধিত কিন্তু বর্তমানে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়া ফার্মার প্রোডিউসার অর্গানাইজেশন (এফপিও)-কে পুনরায় সক্রিয় করা।
সভায় কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিক, ব্যাঙ্ক প্রতিনিধিসহ এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রানিগঞ্জ কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের ভাইস চেয়ারম্যান শ্রী সন্দীপ ভালোটিয়া।
নিজের বক্তব্যে নিরঞ্জন সিনহা জানান, কয়েক বছর আগে রানিগঞ্জ কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের সহায়তায় কো-অপারেটিভ সোসাইটি আইনের আওতায় একটি এফপিও নিবন্ধিত হয়েছিল, কিন্তু বর্তমানে সেটি সম্পূর্ণভাবে কার্যকর নয়।
তিনি জানান, পশ্চিম বর্ধমান জেলায় মোট পাঁচটি এফপিও গঠনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে বারাবনি, জামুড়িয়া, অন্ডাল ও পাণ্ডেশ্বরের এফপিও সফলভাবে কাজ করছে এবং সদস্যরা এর সুফল পাচ্ছেন। এছাড়া সমগ্র পশ্চিমবঙ্গে মোট ৮৭টি এফপিও সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে, যার মাধ্যমে হাজার হাজার কৃষক ও কৃষি-নির্ভর মানুষ আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে রানিগঞ্জের এফপিও নিষ্ক্রিয় থাকা অঞ্চলটির জন্য ক্ষতিকর বলেই তিনি মন্তব্য করেন।
সভায় এফপিও-র বিভিন্ন সুবিধা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সদস্য হতে হলে সর্বোচ্চ ২০০০ টাকা জমা রাখতে হয় এবং সমপরিমাণ অর্থ সদস্যের অ্যাকাউন্টে জমা হয়। বছরের শেষে সংগঠনের লাভ সদস্যদের মধ্যে বণ্টন করা হয়। ম্যানেজমেন্ট কোর্সের জন্য প্রায় ১৮ লক্ষ টাকা এবং অন্যান্য খাতে ১৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে। এফপিও-কে যদি নোডাল সহযোগী বা ক্লাস্টার বেসড বিজনেস অর্গানাইজেশন হিসেবে গড়ে তোলা যায়, তবে ব্যাঙ্কও উল্লেখযোগ্য আর্থিক সহায়তা পেতে পারে। এর আওতায় অফিস ভাড়া, ইউটিলিটি খরচ, একজন অ্যাকাউন্ট অফিসার ও একজন সিইও নিয়োগের সুবিধাও থাকবে।
ভাইস চেয়ারম্যান সন্দীপ ভালোটিয়া জানান, এফপিও-র সদস্য হতে হলে আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে এবং তিনি রানিগঞ্জ ব্লকের বাসিন্দা হতে হবে। পাশাপাশি কৃষি বা কৃষিজাত পণ্যের উৎপাদন বা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকা বাধ্যতামূলক।
তিনি আরও বলেন, এফপিও সম্পূর্ণভাবে চালু হলে ক্লাস্টার মডেলের আওতায় একাধিক সুবিধা মিলবে। এর ফলে কৃষক ও ক্ষুদ্র উৎপাদকরা উন্নত বাজার, ন্যায্য মূল্য ও আর্থিক স্থিতিশীলতা পাবেন, যা তাঁদের জীবনমান উন্নত করতে সহায়ক হবে।
সভা শেষে সন্দীপ ভালোটিয়া আশ্বাস দেন, ব্যাঙ্কের আগামী বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে সকলের মতামতের ভিত্তিতে এফপিও-কে পুনরায় সক্রিয় করার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। উপস্থিত সকলে আশা প্রকাশ করেন, শীঘ্রই রানিগঞ্জ এফপিও পুনরায় কার্যকর হয়ে কৃষক ও কৃষি-ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করবে।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
February 19, 2026
Rating:

No comments: