সময়ের ডাকে ফসলের বদল: দক্ষিণ দিনাজপুরে ভূট্টার সোনালি উত্থান ধান–সরিষা ছেড়ে লাভের আশায় নতুন সম্ভাবনার পথে কৃষকরা
নিজস্ব সংবাদদাতা, বালুরঘাট -: দক্ষিণ দিনাজপুরের কৃষিক্ষেত্রে শুরু হয়েছে এক নতুন অধ্যায়। ধান কাটতে দেরি হওয়ায় সরিষা চাষ পিছিয়ে পড়েছে। সেই পরিস্থিতিতে জেলার কৃষকরা ঝুঁকেছেন লাভজনক বিকল্প ফসল ভূট্টা চাষের দিকে। এই পরিবর্তন শুধু ফসল বদলের গল্প নয়, বরং নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার ইঙ্গিত।
জেলার কৃষি দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী প্রতি বছর ১ লক্ষ ৯০ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধান, ৮০ হাজার হেক্টরে বোরো ধান এবং ৬৬ হাজার হেক্টরে সরিষা চাষ হয়। তবে ২০২৫ সালের নভেম্বরে মন্থার কারণে ধান কাটতে বিলম্ব হওয়ায় সরিষা চাষের নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে যায়। ফলে কৃষকদের সামনে বিকল্প ফসলের প্রয়োজন দেখা দেয়।
জেলা কৃষি দপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, প্রতি এক বিঘা জমিতে ১৪ থেকে ১৫ কুইন্টাল পর্যন্ত ভূট্টা উৎপাদন সম্ভব। এতে বিঘা প্রতি ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ হতে পারে। হাইব্রিড বীজ ও আধুনিক যান্ত্রিক পদ্ধতির ব্যবহারে ফলন আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
জেলার কৃষি আধিকারিক অমিত চট্টোপাধ্যায় জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরেই কৃষকদের ভূট্টা চাষে উৎসাহিত করছিলেন। এবছর ধান কাটতে দেরি হওয়ায় কৃষকরা বিকল্প হিসেবে ভূট্টা চাষে ঝুঁকেছেন এবং লাভ বেশি হওয়ায় আগ্রহ বেড়েছে।
জেলার আটটি ব্লকের মধ্যে হরিরামপুর ব্লকে ভূট্টা চাষের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। এছাড়া ররিখন্ড, হিলি, তপন ও গঙ্গারামপুর এলাকাতেও এই চাষের জনপ্রিয়তা বাড়ছে।
সরিষা চাষের তুলনায় ভূট্টা চাষে লাভ বেশি হওয়ায় আগামী দিনে এই ফসল জেলার কৃষিক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সরকারি সহায়তা ও সচেতনতামূলক উদ্যোগ বাড়ানো হলে এই চাষ আরও প্রসারিত হবে।
ধান কিংবা সরিষার বিকল্প হিসেবে ভূট্টা চাষ এখন শুধু সময়ের প্রয়োজন মেটাচ্ছে না, বরং কৃষকদের আর্থিক স্বাবলম্বিতার পথও প্রশস্ত করছে। দক্ষিণ দিনাজপুরের কৃষিক্ষেত্রে এই পরিবর্তন নতুন দিশা দেখাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে জেলার অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা যায়।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
February 20, 2026
Rating:

No comments: