হিরাপুরে স্বাধীনতা সংগ্রামী তিলকা মুর্মুর ২৭৭তম জন্মজয়ন্তী উদ্যাপন, মাল্যদান ও আদিবাসী নৃত্যে মুখর গ্রাম
হিরাপুর -: বুধবার হিরাপুর থানার অন্তর্গত গুট গুট আদিবাসী গ্রামে বার্নপুর লাকচার সেমলেতের উদ্যোগে পালিত হল স্বাধীনতা সংগ্রামী তিলকা মুর্মু (মাঝি)-এর ২৭৭তম জন্মজয়ন্তী। এদিন হিরাপুর আদিবাসী এলাকার বহু মানুষ একত্রিত হয়ে তিলকা মুর্মুর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করেন এবং তাঁর সংগ্রামী জীবনের ইতিহাস এলাকাবাসীর সামনে তুলে ধরেন আয়োজক কমিটির সদস্যরা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অল আদিবাসী কো-অর্ডিনেশন কমিটির সম্পাদক মতিলাল সরেন, আদিবাসী স্টুডেন্ট এন্ড ইউথ ফোরাম এর সভাপতি হীরালাল সরেন, গুরুদাস কিসকু, গৌরদাস মাড্ডি, সঞ্জয় মাড্ডি, বাপি হাঁসদা-সহ একাধিক আদিবাসী বুদ্ধিজীবী ও সমাজকর্মী। এলাকার বহু আদিবাসী পুরুষ-মহিলা ও ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতিতে গোটা অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে উৎসবমুখর। জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজন করা হয় ঐতিহ্যবাহী আদিবাসী নৃত্যের, যেখানে এলাকার নারী ও পুরুষ শিল্পীরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মতিলাল সরেন বলেন, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল ও গৌরবময় নাম তিলকা মুর্মু, যিনি ‘বাবা তিলকা মাঝি’ নামেও সুপরিচিত। ১৭৫০ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি বর্তমান বিহারের সুলতানগঞ্জ এলাকার তিলকপুর গ্রামে এক সাঁওতাল পরিবারে তাঁর জন্ম। তাঁর পিতার নাম ছিল সুন্দরা মুর্মু। ইতিহাসে তিনি ‘জাবরা পাহাড়িয়া’ নামেও পরিচিত।
অল্প বয়স থেকেই তিলকা মুর্মু ব্রিটিশ শাসনের অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ওঠেন। ১৭৭১ থেকে ১৭৮৪ সালের মধ্যে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির জমি লুঠ, জোরপূর্বক খাজনা আদায় এবং স্থানীয় জমিদারদের নিপীড়নের বিরুদ্ধে তিনি সাঁওতাল ও পাহাড়িয়া সম্প্রদায়কে সংগঠিত করেন। তাঁর নেতৃত্বে শুরু হয় সশস্ত্র প্রতিরোধ আন্দোলন, যা ব্রিটিশ শাসকদের ভিত নাড়িয়ে দেয়।
তিনি আরো জানান, ১৭৮৪ সালে ব্রিটিশ কর্মকর্তা অগাস্টাস ক্লিভল্যান্ডকে তীরবিদ্ধ করে হত্যা করার ঘটনায় তাঁর সাহসিকতা ইতিহাসে বিশেষভাবে চিহ্নিত। ঘটনার পর ইংরেজ বাহিনী তাঁকে ধরতে ব্যাপক অভিযান চালায়। অবশেষে ১৭৮৪ সালের শেষ দিকে অথবা ১৭৮৫ সালের শুরুতে তিনি গ্রেফতার হন। নির্মমভাবে তাঁকে ঘোড়ার পেছনে বেঁধে টেনে ভাগলপুরে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে একটি বটগাছে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
তিলকা মুর্মুকে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম প্রাচীন শহীদ হিসেবে গণ্য করা হয়। বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের আদিবাসী সমাজে তিনি আজও ‘বাবা তিলকা মাঝি’ হিসেবে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণীয়। তাঁর স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে ভাগলপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরণ করা হয়েছে “তিলকা মাঝি ভাগলপুর বিশ্ববিদ্যালয়”। প্রখ্যাত সাহিত্যিক মহাশ্বেতা দেবীর “শালগিরার ডাকে” উপন্যাসেও তাঁর বীরত্বগাথা স্থান পেয়েছে।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
February 12, 2026
Rating:

No comments: