পাণ্ডবেশ্বর -: খোট্টাডিহি মোড়ে ভোরের দুঃস্বপ্ন, ১৪ নম্বর জাতীয় সড়কে বাসে ডাম্পারের ধাক্কা, অল্পের জন্য বড় বিপর্যয় এড়াল যাত্রীরা। রবিবার ভোরে ঘড়ির কাঁটায় তখন সকাল প্রায় ৬টা ৩০, হঠাৎই বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে পাণ্ডবেশ্বর-এর খোট্টাডিহি মোড় এলাকা। ছাইবোঝাই একটি ডাম্পার দানবের মতো ছুটে এসে সোজা ধাক্কা মারে একটি যাত্রীবাহী বাসে। মুহূর্তে দু’টি গাড়ির সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে চুরমার হয়ে যায়। তবে আশ্চর্যজনকভাবে এত বড় দুর্ঘটনার পরও অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান বাসের সব যাত্রী। স্থানীয়দের কথায়, এটি এক কথায় অলৌকিক রক্ষা।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, খোট্টাডিহি মোড় এখন কার্যত দুর্ঘটনার হটস্পট হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডাম্পার, ট্রাক, ছাইবোঝাই লরি একটির চেয়ে আরেকটি যেন আরও ভয়ঙ্করভাবে রাস্তায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। লাগামহীন গতিতে প্রতিদিনই ছুটে চলা ভারী যানবাহনের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপের অভাবেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ। রবিবারের ঘটনাও যেন ছিল অপেক্ষায় থাকা আরেকটি বিপর্যয়।
দুর্ঘটনা ঘটতেই ডাম্পারের চালক ও খালাসী গা ঢাকা দেয়। রাস্তায় আতঙ্কে চিৎকার করতে থাকেন যাত্রীরা, আর অভিযুক্তরা মুহূর্তে উধাও হয়ে যায়। এই ঘটনায় এলাকাবাসীর ক্ষোভ চরমে পৌঁছেছে। তাদের অভিযোগ, বেপরোয়া চালকদের এই দৌরাত্ম্য এখন নিত্যদিনের ছবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পাণ্ডবেশ্বর ট্রাফিক গার্ড ও পাণ্ডবেশ্বর থানার পুলিশ। যাত্রীদের অন্য বাসে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। পরে ক্রেন এনে জাতীয় সড়ক থেকে দুর্ঘটনাগ্রস্ত দু’টি গাড়ি সরানো হয় এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করার কাজ শুরু হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, খোট্টাডিহি মোড়ে বাম্পার না থাকা এবং গতিনিয়ন্ত্রণের কোনও কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় এই জাতীয় সড়ক ধীরে ধীরে মৃত্যুফাঁদে পরিণত হচ্ছে। বারবার দুর্ঘটনা ঘটলেও প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এলাকাবাসীর সরাসরি প্রশ্ন, আর কত দুর্ঘটনার পর প্রশাসনের ঘুম ভাঙবে, আর কতদিন চলবে বেপরোয়া চালকদের এই রাজত্ব।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
February 22, 2026
Rating:


No comments: