দুর্গাপুর -: ১৪ ফেব্রুয়ারি—যে দিনটিতে সাধারণত তরুণ প্রজন্ম ভ্যালেন্টাইনস ডে উদযাপনে ব্যস্ত থাকে, সেই দিনটিকেই এক ভিন্ন অর্থে উদযাপন করে নজির গড়লেন দুর্গাপুরের বাসিন্দা পূজা রায়। আধুনিক উৎসবের পরিবর্তে তিনি বেছে নিলেন পারিবারিক মূল্যবোধ ও মানবসেবার পথ। ঠাকুরদার মৃত্যুবার্ষিকীতে তিনি পৌঁছে গেলেন একটি বৃদ্ধাশ্রমে, যেখানে প্রবীণ মহিলাদের হাতে তুলে দিলেন নতুন বস্ত্র এবং পেলেন তাঁদের আন্তরিক আশীর্বাদ।
পূজা রায় তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে শহরের এক বৃদ্ধাশ্রমে যান। সেখানে বসবাসরত প্রবীণ মহিলাদের সঙ্গে সময় কাটান, তাঁদের খোঁজখবর নেন এবং নিজের হাতে নতুন পোশাক উপহার দেন। শুধু উপহার দেওয়াই নয়, তাঁদের সঙ্গে আন্তরিক আলাপচারিতার মাধ্যমে তিনি অনুভব করান ভালোবাসা ও আপনত্বের ছোঁয়া। আশ্রমের মহিলারাও স্নেহভরা আশীর্বাদে ভরিয়ে দেন তাঁকে।
পূজা জানান, তাঁর ঠাকুরদা সবসময় তাঁকে শিখিয়েছেন সেবা, সম্মান এবং পারিবারিক মূল্যবোধের গুরুত্ব। তাই তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে এমন কিছু করার ইচ্ছা ছিল, যা সমাজের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করবে। তাঁর কথায়,
“আমাদের সংস্কৃতিতে বড়দের সম্মান ও সেবা সর্বাগ্রে। যদি আমরা আমাদের বিশেষ দিনগুলো প্রয়োজনমতো মানুষের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারি, তার চেয়ে বড় আনন্দ আর কিছু হতে পারে না।”
স্থানীয় মানুষজন পূজা রায়ের এই উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, যখন অনেক তরুণ-তরুণী আধুনিকতার দিকে বেশি আকৃষ্ট, তখন পূজার এই পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে নতুন প্রজন্মও সমানভাবে সংস্কার ও পারিবারিক মূল্যবোধকে গুরুত্ব দেয়।
এই উদ্যোগ শুধু ঠাকুরদার প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধার্ঘ্য নয়, বরং সমাজের প্রতি এক ইতিবাচক বার্তাও—ভালোবাসার আসল অর্থ উপহার বা উদযাপনে নয়, বরং সেবা, সহমর্মিতা ও সম্মানের মধ্যেই নিহিত।
নিঃসন্দেহে, পূজা রায়ের এই উদ্যোগ অন্যান্য তরুণদেরও অনুপ্রাণিত করবে এবং দেখিয়ে দেবে—আধুনিকতার সঙ্গে ঐতিহ্য ও মানবিকতাকে সমানভাবে ধারণ করাই প্রকৃত অগ্রগতি।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
February 15, 2026
Rating:

No comments: