নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল -: পশ্চিমবঙ্গে চলমান এসআইআর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ প্রকাশ করল আসানসোল–দুর্গাপুরের অল আদিবাসী কো-অর্ডিনেশন কমিটি। সোমবার সংগঠনের পক্ষ থেকে পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসকের মারফত ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়ে অভিযোগ জানানো হয়—রাজ্যের দরিদ্র, নিরক্ষর ও অসচেতন বহু আদিবাসী ও জনজাতি মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। দ্রুত এই প্রক্রিয়ায় সংশোধনের দাবি জানিয়েছে সংগঠন।
সংগঠনের বক্তব্য, বিশেষ করে পশ্চিম বর্ধমান জেলায় বহু আদিবাসী বাসিন্দার নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে। দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা, সচেতনতার অভাব এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্রের অপ্রাপ্যতার কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ। অথচ এদের অনেকেই প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ওই এলাকায় বসবাস করছেন।
কয়েকদিন আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পশ্চিম বর্ধমান আদিবাসী স্টুডেন্ট অ্যান্ড ইউথ ফোরামের সভাপতি হীরালাল সরেন বলেন,
“পশ্চিম বর্ধমানে যদি একজনও আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষের নাম এসআইআর থেকে বাদ যায়, তবে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব।”
অন্যদিকে অল আদিবাসী কো-অর্ডিনেশন কমিটির সভাপতি জনার্দন কড়া জানান, অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে অনগ্রসর এই জনগোষ্ঠীর বহু মানুষ ভোটাধিকার ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পর্কে পর্যাপ্তভাবে অবগত নন। ফলে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়লে তারা সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত হবেন এবং চরম দুর্ভোগের শিকার হতে পারেন।
সংগঠনের পক্ষ থেকে একটি আরোও গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। যেসব ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নথিপত্রের অভাব বা অসঙ্গতি রয়েছে, সেখানে ঐতিহ্যবাহী আদিবাসী/জনজাতি গ্রাম পরিষদের প্রত্যয়নকে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। সংগঠনের মতে, গ্রাম পরিষদ প্রকৃত বাসিন্দাদের পরিচয় ও বসবাসের সত্যতা নিশ্চিত করতে সক্ষম। এই ধরনের বিকল্প ব্যবস্থা চালু করা হলে প্রকৃত ভোটারদের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়া রোধ করা সম্ভব হবে।
সংগঠনের সম্পাদক মতিলাল সরেন বলেন, দরিদ্র আদিবাসী ও জনজাতি মানুষের নাম যথাযথভাবে বিবেচনা করে পুনরায় ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, যাতে তারা তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের সুযোগ পান।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
February 17, 2026
Rating:

No comments: