কলকাতায় শিক্ষাকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক সংঘাত, রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর কড়া আক্রমণ
কলকাতা -: পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। কলকাতায় এক শিক্ষক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান রাজ্যের শাসকদলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান। তাঁর অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল শিক্ষক সংকট, নতুন শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন এবং কেন্দ্রীয় আর্থিক সহায়তা।
তিনি দাবি করেন, দেশে সবচেয়ে বেশি শিক্ষকহীন স্কুল রয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। বহু স্কুলে স্থায়ী শিক্ষক নেই, যা শিক্ষার মানের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে বলে তাঁর মন্তব্য।
নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি কার্যকর না করায় ‘সমগ্র শিক্ষা অভিযান’-এর আওতায় রাজ্য বিপুল কেন্দ্রীয় আর্থিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সময়মতো শিক্ষানীতি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ১০,০০০ কোটি টাকার অতিরিক্ত সহায়তা পেতে পারত রাজ্য। শিক্ষানীতিকে রাজনৈতিক অহংকারের বিষয় বানানো হয়েছে বলেও তিনি কটাক্ষ করেন।
মাতৃভাষায় শিক্ষার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, জাতীয় শিক্ষানীতিতে প্রাথমিক স্তরে মাতৃভাষায় পাঠদানকে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। বাংলায় শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে বাংলা ভাষাকে আরও জোরদার করার সুযোগ থাকলেও রাজ্য সরকার সে পথে যথাযথভাবে এগোচ্ছে না বলে তাঁর অভিযোগ।
তিনি আরও দাবি করেন, কেন্দ্র থেকে প্রস্তাবিত অতিরিক্ত তহবিল গ্রহণে রাজ্য সরকারের অনীহা জাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়-এর উন্নয়নে প্রভাব ফেলতে পারে।
সরকারি স্কুলগুলিতে ইন্টারনেট সংযোগের হার জাতীয় গড়ের তুলনায় কম বলেও তিনি মন্তব্য করেন। পাশাপাশি তিনি পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, রাজ্যে হাজার হাজার স্কুলে একজনও স্থায়ী শিক্ষক নেই।
ভবিষ্যতে রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তন হলে শিক্ষা ক্ষেত্রকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারের তরফে এই অভিযোগগুলির আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক মহলের মতে, শিক্ষার প্রশ্ন আগামী দিনে বাংলার রাজনীতিতে বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
February 15, 2026
Rating:

No comments: