আসানসোল, নিজস্ব সংবাদদাতা -: প্রথম দফায় নজিরবিহীন ৯০.২৯ শতাংশ ভোটগ্রহণের পর পশ্চিম বর্ধমানে রাজনৈতিক লড়াই এখন নতুন মোড় নিয়েছে। বুথ পেরিয়ে সেই লড়াই সরাসরি পৌঁছেছে স্ট্রং রুমের দরজায়। আসানসোল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ইভিএম সংরক্ষণ কেন্দ্র ঘিরে শুরু হয়েছে কার্যত স্নায়ুযুদ্ধ। ৬টি বিধানসভা আসনের ভাগ্য এখন বহুস্তরীয় নিরাপত্তার ‘লোহার ঘরে’ বন্দি।
শুক্রবার জেলা শাসক এস. পোন্নবলাম স্বয়ং স্ট্রং রুমে গিয়ে নিরাপত্তা খতিয়ে দেখেন। প্রশাসনের দাবি, নিরাপত্তায় কোনও ফাঁক নেই—বাইরে রাজ্য পুলিশ, মাঝখানে কেন্দ্রীয় বাহিনী, আর ভেতরে ডিজিটাল নজরদারির কড়া বলয়। প্রতিটি ইভিএম রাজনৈতিক দলগুলির এজেন্টদের উপস্থিতিতে সিল করা হয়েছে এবং ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি নজরদারিতে রাখা হয়েছে। জেলা শাসকের স্পষ্ট বার্তা, “এই নিরাপত্তা ভেদ করা কার্যত অসম্ভব।”
কিন্তু প্রশাসনিক আশ্বাসেও থামছে না রাজনৈতিক তাপমাত্রা। বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পাল তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “মানুষের রায়ে আমাদের আস্থা অটুট। কিন্তু তৃণমূলের ভূমিকায় সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে। তাই আমরা এক মুহূর্তের জন্যও ঢিলেমি দিচ্ছি না—কর্মীরা স্ট্রং রুমের বাইরে প্রহরায় রয়েছে।” ভোটের দিন তাঁর গাড়িতে হামলার ঘটনাও তুলে ধরে তিনি প্রশ্ন তোলেন নিরাপত্তা নিয়ে।
অন্যদিকে, কংগ্রেস প্রার্থী প্রসেনজিৎ পুইতুন্ডি আরও একধাপ এগিয়ে ইভিএম বদলের আশঙ্কাকে ‘বাস্তব’ বলে দাবি করেছেন। তাঁর কথায়, “এটা কোনও গুজব নয়, অতীতেও এমন অভিযোগ উঠেছে। তাই স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে আরও কঠোর হতে হবে এবং সব দলকে সমানভাবে নজরদারির অধিকার দিতে হবে।”
আসানসোল উত্তর, দক্ষিণ, কুলটি, বারাবনি, রানীগঞ্জ ও জামুড়িয়া—এই ৬টি আসনের ইভিএম এখন স্ট্রং রুমে সুরক্ষিত। প্রশাসন জানিয়েছে, আগামী ৪ মে গণনার দিন পর্যন্ত এই কড়া নিরাপত্তা বলয় বজায় থাকবে।
তবে ফল ঘোষণার আগ পর্যন্ত উত্তেজনা কমার লক্ষণ নেই। বিজেপি, তৃণমূল ও কংগ্রেস—তিন শিবিরই স্ট্রং রুমের বাইরে অস্থায়ী শিবির গড়ে ‘রাতজাগা পাহারা’ দিচ্ছে। উচ্চ ভোটদানের পর ফল নিয়ে চূড়ান্ত অনিশ্চয়তার আবহে, আসানসোলের এই স্ট্রং রুমই এখন রাজনীতির ‘নার্ভ সেন্টার’। এখানেই নির্ধারিত হবে কার হাতে যাবে ক্ষমতার চাবিকাঠি।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
April 24, 2026
Rating:


No comments: