প্রতিবেদক, কলকাতা /২০ এপ্রিল -: আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-কে ঘিরে নজিরবিহীন কড়াকড়ি শুরু করল রাজ্য প্রশাসন। আইন-শৃঙ্খলা অটুট রাখতে এবং ভোট প্রক্রিয়াকে প্রভাবমুক্ত করতে বড় সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রথম দফার ভোটের চার দিন আগেই মদের দোকান সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ জারি করা হয়েছে।
নির্দেশ জারি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হয়েছে সিদ্ধান্ত—২৩ এপ্রিলের প্রথম দফার ভোটকে সামনে রেখে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলিতে রবিবার রাত থেকেই একযোগে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে মদের দোকানের শাটার। এতদিন যেখানে ৪৮ ঘণ্টার নিষেধাজ্ঞাই ছিল নিয়ম, সেখানে এবারে সময়সীমা বাড়িয়ে চার দিন করায় স্পষ্ট, প্রশাসন কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ।
প্রথম দফার আওতায় থাকা দার্জিলিং, কালিম্পং, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদা, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান ও বীরভূম—সব জেলাতেই কড়াভাবে এই নির্দেশ কার্যকর হয়েছে।
দ্বিতীয় দফার ভোট (২৯ এপ্রিল) কেন্দ্র করেও আগাম প্রস্তুতি শুরু। সেই পর্যায়ে থাকা এলাকাগুলিতে ২৫ এপ্রিল থেকে মদের দোকান বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে। শুধু খুচরো বিক্রি নয়, সরবরাহ ব্যবস্থাতেও লাগাম টানা হয়েছে—রাজ্য সরকারের মদ গুদামগুলিকেও সোমবার থেকে বন্ধ রাখার নির্দেশ, যাতে অতিরিক্ত মজুত বা বেআইনি সরবরাহের সুযোগ না থাকে।
হঠাৎ এই কড়া সিদ্ধান্তে চাপে পড়েছেন ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা। সাধারণত ৪৮ ঘণ্টার নিষেধাজ্ঞা মাথায় রেখে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হলেও এবার নির্দেশ জারির দিন থেকেই দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেকেই বিপাকে পড়েছেন। নিউ টাউনের এক দোকান মালিক জানান, “রবিবারেই নির্দেশ পাই—চার দিন আগে থেকেই বন্ধ রাখতে হবে। গুদামও বন্ধ, ফলে কোনওভাবেই সরবরাহ সম্ভব নয়।”
প্রশাসনের স্পষ্ট বার্তা—ভোটের সময় কোনওভাবেই অশান্তি বা প্রভাব খাটানোর সুযোগ দেওয়া হবে না। মদের অপব্যবহার রুখতেই এই আগাম ‘ড্রাই ডে’ কৌশল, এবং তা কার্যকর করতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে সর্বত্র।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
April 20, 2026
Rating:

No comments: