নিজস্ব সংবাদদাতা, রানীগঞ্জ, ৯ এপ্রিল -: মহাপণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন-এর ১৩৪তম জন্মদিবস যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে পালিত হলো রানীগঞ্জে। বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গ গণতান্ত্রিক লেখক শিল্পী সংঘের উদ্যোগে রানীগঞ্জ মোড়ে তাঁর পূর্ণাবয়ব মূর্তিতে মাল্যদান করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অনুপ মিত্র, অভিজিৎ খাঁ, অসিতাভ দাশগুপ্ত, সঞ্জয় প্রামাণিক, দুলাল কর্মকার, বাসুদেব মণ্ডল চট্টোপাধ্যায়, মলয়কান্তি মণ্ডল-সহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃত্বরা।
আয়োজকরা জানান, রাহুল সাংকৃত্যায়নের আসল নাম ছিল কেদারনাথ পাণ্ডে। ১৮৯৩ সালের ৯ এপ্রিল উত্তর প্রদেশের আজমগড়ে তাঁর জন্ম। তিনি ছিলেন ভারতের একজন প্রখ্যাত পর্যটক, বৌদ্ধ দর্শনসহ বিভিন্ন শাস্ত্রে সুপণ্ডিত এবং মার্কসীয় চিন্তাধারায় দীক্ষিত একজন বিশিষ্ট মনীষী। বৈজ্ঞানিক বস্তুবাদের তাত্ত্বিক ব্যাখ্যায় তাঁর অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলির মধ্যে রয়েছে ‘ভাগো নেহি, দুনিয়া কো বদলো’ এবং ‘ভোলগা থেকে গঙ্গা’।
এদিন অনুপ মিত্র বলেন, রাহুল সাংকৃত্যায়ন ছিলেন এক নির্ভীক অভিযাত্রী, যিনি জ্ঞানের সন্ধানে কখনও পিছপা হননি। বিশ্বের নানা দেশ ভ্রমণ করে তিনি মানবসমাজকে গভীরভাবে উপলব্ধি করতে চেয়েছিলেন এবং মানুষে মানুষে বিভাজনের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। তাঁর রচনাসমূহে জ্ঞানচর্চা ও সমাজভাবনার গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলি সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সালে রানীগঞ্জে এই মহাপণ্ডিতের শতবর্ষ উদ্যাপন করা হয় এবং ১৯৯৪ সালে তাঁর পূর্ণাবয়ব মূর্তি স্থাপন করা হয়। এদিনের অনুষ্ঠানে বক্তারা রাহুল সাংকৃত্যায়নের জীবন ও দর্শন সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
April 09, 2026
Rating:

No comments: