নিজস্ব সংবাদদাতা,কলকাতা -: একসময় পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির চালিকাশক্তি ছিল কংগ্রেস। স্বাধীনতার পরবর্তী সময় থেকে দীর্ঘদিন ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা এই দল আজ রাজ্যের রাজনৈতিক পরিসরে কার্যত প্রান্তিক শক্তি। গত প্রায় পাঁচ দশকের রাজনৈতিক পালাবদলের ধারায় কংগ্রেসের এই অবক্ষয় শুধু একটি দলের পতনের গল্প নয়, বরং বাংলার রাজনীতির গভীর রূপান্তরের প্রতিফলন।
১৯৭৭ সাল—বাংলার রাজনীতিতে এক যুগান্তকারী মোড়। ওই বছর জ্যোতি বসু-র নেতৃত্বে বামফ্রন্ট ক্ষমতায় আসে এবং শুরু হয় দীর্ঘ ৩৪ বছরের একটানা শাসন। ভূমি সংস্কার, গ্রামীণ সংগঠন এবং সুসংহত দলীয় কাঠামোর উপর ভর করে বামফ্রন্ট দ্রুত জনভিত্তি শক্তিশালী করে তোলে। এর প্রভাবেই কংগ্রেস ধীরে ধীরে তার রাজনৈতিক জমি হারাতে শুরু করে।
১৯৯৮ সালে আসে দ্বিতীয় বড় ধাক্কা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেস ত্যাগ করে তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা করেন। এই বিভাজন কংগ্রেসের ভিত নড়িয়ে দেয়। দলের ঐতিহ্যবাহী ভোটব্যাঙ্কে ফাটল ধরে এবং সংগঠন দুর্বল হয়ে পড়ে।
২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচন বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচনা করে। তৃণমূল কংগ্রেসের ঐতিহাসিক জয়ের মাধ্যমে বামফ্রন্ট শাসনের অবসান ঘটে। কিন্তু এই পালাবদলের কেন্দ্রে থেকেও কংগ্রেস নিজের অবস্থান সুসংহত করতে ব্যর্থ হয় এবং ধীরে ধীরে প্রান্তিক শক্তিতে পরিণত হয়।
পরবর্তী সময়ে ভারতীয় জনতা পার্টি-র দ্রুত উত্থান রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। অন্যদিকে কংগ্রেস ও বামফ্রন্ট একটি আসনও পায়নি—যা তাদের রাজনৈতিক সংকোচনের প্রকট চিত্র।
বিশ্লেষকদের মতে, কংগ্রেসের এই দীর্ঘমেয়াদি পতনের পেছনে রয়েছে একাধিক কাঠামোগত দুর্বলতা—দুর্বল সাংগঠনিক ভিত্তি, শক্তিশালী নেতৃত্বের অভাব, সময়োপযোগী কৌশলের অভাব এবং তৃণমূল স্তরে জনসংযোগের ক্রমহ্রাস।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলায় কংগ্রেসের লড়াই শুধুমাত্র ক্ষমতায় ফেরার নয়, বরং অস্তিত্ব রক্ষার। রাজনৈতিক মহলের অভিমত, সংগঠন পুনর্গঠন ও নতুন নেতৃত্ব গড়ে তোলা ছাড়া দলের ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
April 01, 2026
Rating:
.jpg)
No comments: