যীশু হেমব্রম,পশ্চিম বর্ধমান -: পশ্চিম বর্ধমান জেলায় আদিবাসী সমাজকে কেন্দ্র করে বাড়ছে বিতর্ক। স্থানীয় মহলের একাংশের দাবি, কিছু আদিবাসী সংগঠনের নেতা ও গ্রামের মাঝি-মোড়লদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, বিশেষত রাজনৈতিক কার্যকলাপে তাদের সক্রিয়তা নিয়ে।
অভিযোগ অনুযায়ী, কিছু ক্ষেত্রে আদিবাসী সমাজের নাম ও সংগঠনকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা হচ্ছে। এর ফলে সমাজের একটি অংশের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে বলে মত অনেকের। যদিও এই অভিযোগ সর্বত্র প্রযোজ্য নয়—এখনও বহু সংগঠন ও মাঝি-মোড়ল সমাজের স্বার্থে কাজ করছেন এবং ঐতিহ্য ও সামাজিক কাঠামো রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছেন।
সমাজকর্মী শ্যাম মাড্ডি এই প্রসঙ্গে বলেন, “রাজনীতি করা সবার অধিকার, কিন্তু সমাজের নাম ব্যবহার করে মানুষকে প্রভাবিত করা ঠিক নয়। এতে সমাজের ভিত দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।”
স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, আদিবাসী সমাজের মূল ভিত্তি গ্রামসভা, সামাজিক রীতি-নীতি ও সংস্কৃতি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু এলাকায় এই ঐতিহ্যগত কাঠামোর সক্রিয়তা কমে যাওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। এর পেছনে রাজনৈতিক প্রভাব ছাড়াও আর্থ-সামাজিক পরিবর্তনের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকে।
এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে গ্রামোন্নয়নমূলক কাজের তুলনায় রাজনৈতিক কার্যকলাপের উপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যদিও এই দাবিগুলি যাচাইসাপেক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের বক্তব্য জানা প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্লেষকদের মতে, রাজনীতি ও সমাজনীতির মধ্যে স্পষ্ট সীমারেখা বজায় রাখা না গেলে দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। তাই এই পরিস্থিতিতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
বর্তমানে এই বিষয়টি নিয়ে জেলার বিভিন্ন স্তরে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে অভিযোগের বাস্তবতা এবং এর প্রভাব কতটা গভীর—তা জানতে সংশ্লিষ্ট সংগঠন, নেতৃত্ব ও সাধারণ মানুষের মতামত সামনে আসা এখন সময়ের দাবি।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
April 24, 2026
Rating:

No comments: