বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নের নোটিশ ঘিরে তীব্র বিক্ষোভ, কুনুস্তড়িয়ায় ইসিএলের জিএম অফিস ঘেরাও হাজারো বাসিন্দার
জামুড়িয়া -: ইসিএলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নোটিশকে কেন্দ্র করে শুক্রবার তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হল জামুড়িয়ার কুনুস্তড়িয়া এলাকায়। দীর্ঘদিন ধরে ইসিএলের বিদ্যুৎ পরিষেবার উপর নির্ভরশীল এলাকার বাসিন্দারা এদিন কুনুস্তড়িয়া মোড় সংলগ্ন ইসিএলের জিএম অফিস ঘেরাও করে ব্যাপক বিক্ষোভে সামিল হন। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে সকাল থেকেই জিএম অফিসের সামনে জড়ো হতে থাকেন শতাধিক মহিলা-পুরুষ। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় জামুড়িয়া থানার কেন্দা ফাঁড়ির পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী সিআইএসএফকে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সম্প্রতি ইসিএলের পক্ষ থেকে একটি নোটিশ জারি করা হয়েছে, যেখানে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে ইসিএল অধ্যুষিত এলাকায় সংস্থার তরফে দেওয়া বিদ্যুৎ সংযোগ পর্যায়ক্রমে বিচ্ছিন্ন করা হবে। এই ঘোষণার পর থেকেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে কুনুস্তড়িয়া এলাকায়। বাসিন্দাদের দাবি, বছরের পর বছর ধরে তারা এই পরিষেবা ব্যবহার করে আসছেন, অথচ বিকল্প কোনও ব্যবস্থা না করেই বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বিক্ষোভ চলাকালীন স্থানীয় বাসিন্দা অরুণ কুমার প্রসাদ ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “আমরা বহু বছর ধরে ইসিএল এলাকার মধ্যে বসবাস করছি। এখন আমাদের উচ্ছেদ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও তো ইসিএলের কোয়ার্টারে বসবাস করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। আবার জামুড়িয়ার একাধিক বেসরকারি কারখানা ইসিএলের বিপুল পরিমাণ জমি দখল করে রেখেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সেদিকে নজর না দিয়ে শুধুমাত্র গরিব মানুষদেরই টার্গেট করা হচ্ছে।”
বিক্ষোভস্থলে উপস্থিত জেলা মহিলা মোর্চার নেত্রী সীমা সিং বলেন, “কুনুস্তড়িয়া কোলিয়ারি কর্তৃপক্ষ এলাকার গরিব মানুষদের অযথা হয়রানি করার চেষ্টা করছে। এই এলাকায় প্রায় এক হাজার মানুষের বসবাস। তাঁদের জীবন-জীবিকা ও দৈনন্দিন প্রয়োজনের সঙ্গে বিদ্যুৎ পরিষেবা সরাসরি যুক্ত। কোনওভাবেই তাঁদের এভাবে সমস্যার মুখে ঠেলে দেওয়া যায় না। ইসিএল কর্তৃপক্ষকে বিকল্প সমাধানের পথ খুঁজতে হবে।”
তিনি আরও জানান, বিক্ষোভকারীদের পক্ষ থেকে ইসিএল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। সেই বৈঠকে কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়েছে যে আপাতত কোনও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে না। তবে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি।
এদিনের বিক্ষোভে দফায় দফায় স্লোগান, অবস্থান এবং প্রতিবাদ কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন এলাকার মানুষ। আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়াতে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি নেতা সুনীল নোনিয়া, রাকেশ গিরি, অজিত রাম, উত্তম বাউরী-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
যদিও এই পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসিএলের কোনও উচ্চপদস্থ আধিকারিক সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলতে চাননি। ফলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের নোটিশের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে জল্পনা অব্যাহত রয়েছে।
বর্তমানে ইসিএলের আশ্বাসে সাময়িকভাবে পরিস্থিতি শান্ত হলেও, কুনুস্তড়িয়ার হাজারো মানুষের মাথার উপর ঝুলে থাকা অনিশ্চয়তার কালো মেঘ এখনও কাটেনি।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
June 05, 2026
Rating:

No comments: