জামুড়িয়ায় কথিত ধর্মান্তরকরণ নিয়ে চাঞ্চল্য, প্রশ্নের মুখে আদিবাসী সমাজের নীরবতা প্রলোভনের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে ভিএইচপি-বজরং দল; তদন্তে পুলিশ, জোরালো বিতর্ক
নিজস্ব সংবাদদাতা, জামুড়িয়া -: পশ্চিম বর্ধমান জেলায় একদিকে বিভিন্ন আদিবাসী সংগঠন সামাজিক উন্নয়ন, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। অন্যদিকে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষকে ধর্মান্তরিত করার অভিযোগ বারবার সামনে আসছে। এই পরিস্থিতিতে আদিবাসী সমাজ ও সংগঠনগুলির ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অভিযোগ, অর্থের প্রলোভন ও বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেখিয়ে দরিদ্র আদিবাসীদের একটি অংশকে নিজেদের ঐতিহ্যগত ধর্ম থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। যদিও এই অভিযোগ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
রবিবার জামুড়িয়া থানার অন্তর্গত বাগান ধাওড়া আদিবাসী এলাকায় একটি অস্থায়ী চার্চে কথিত ধর্মান্তরকরণের প্রক্রিয়া চলছিল বলে অভিযোগ ওঠে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও বজরং দলের সদস্যরা। তাঁদের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় জামুড়িয়া থানার পুলিশ। পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, এই ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি।
ঘটনা প্রসঙ্গে জামুড়িয়া বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সভাপতি সুব্রত ঘোষাল দাবি করেন, জামুড়িয়া বিধানসভার একাধিক এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই আদিবাসী সহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষজনকে ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা চলছে। তাঁর অভিযোগ, রবিবারও বাগান ধাওড়া এলাকায় একই ধরনের কার্যকলাপ চলছিল। খবর পাওয়ার পর পুলিশকে জানানো হয় এবং সংগঠনের সদস্যরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছে সেই প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেন। তাঁর আরও দাবি, সামান্য অর্থ ও নানা প্রলোভন দেখিয়ে এই কাজ করা হচ্ছে এবং প্রশাসনের উচিত অবিলম্বে এ ধরনের কার্যকলাপ বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।
তবে ঘটনাটিকে ঘিরে যে ধর্মান্তরকরণের অভিযোগ উঠেছে, তা এখনও পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত চলছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আদিবাসী সমাজের মধ্যেও নানা প্রশ্ন উত্থাপিত হচ্ছে। বহু মানুষের মত, যদি সত্যিই প্রলোভন দেখিয়ে ধর্মান্তরকরণের ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে আদিবাসী সমাজের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও নিজস্ব ধর্মীয় পরিচয় রক্ষায় সংগঠনগুলির আরও সক্রিয় হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে অন্য অংশের মত, এমন সংবেদনশীল বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য ও প্রশাসনিক তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত।
এদিকে আদিবাসীদের ধর্মকোড -এর দাবিতে বিভিন্ন সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে এই ধরনের অভিযোগ সামনে আসায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনেকের প্রশ্ন, যদি আদিবাসী সম্প্রদায়ের একাংশ ক্রমাগত অন্য ধর্মে চলে যায়, তাহলে ভবিষ্যতে ধর্মকোডের দাবির বাস্তবতা কতটা শক্তিশালী থাকবে? আবার অন্যদের মতে, বিষয়টি নিয়ে আবেগ নয়, তথ্যভিত্তিক তদন্ত এবং সমাজের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিই এখন সবচেয়ে জরুরি।
বর্তমানে সকলের নজর প্রশাসনের তদন্ত এবং আদিবাসী সমাজ ও বিভিন্ন সংগঠনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
June 29, 2026
Rating:


No comments: