নিজস্ব সংবাদদাতা, আসানসোল -: অতিরিক্ত কাজের চাপ, অথচ বেতন বৃদ্ধির কোনও উদ্যোগ নেই—এই অভিযোগকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার আসানসোল পৌর নিগমের ৭ নম্বর বরো অফিসের সামনে বিক্ষোভে সামিল হলেন সাফাইকর্মীরা। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলে তাঁদের বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ। কর্মীদের অভিযোগ, নির্ধারিত ডিউটি শেষ হওয়ার পরও তাঁদের জোর করে দ্বিতীয় শিফটে কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে, যা শ্রম আইন ও মানবিকতার পরিপন্থী।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া সাফাইকর্মীদের বক্তব্য, তাঁদের সরকারি ডিউটির সময় সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টো পর্যন্ত। প্রতিদিন ভোর থেকে শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে রাস্তা পরিষ্কার, আবর্জনা অপসারণ এবং নিকাশি ব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করার পরও পুনরায় কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। এতে শারীরিক ও মানসিকভাবে তাঁরা চরম সমস্যার মুখে পড়ছেন।
বিক্ষোভকারী সাফাইকর্মী ববিতা বাউরি ও অরুণ বাউরি অভিযোগ করে বলেন, সরকারিভাবে দুই শিফটে কাজের নির্দেশ এলেও সেই অনুযায়ী তাঁদের বেতন বা ভাতা বাড়ানো হয়নি। বর্তমানে মাসে মাত্র ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা বেতনে সংসার চালানোই যেখানে কঠিন, সেখানে অতিরিক্ত সময় কাজ করার নির্দেশ সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্য, 'সম্মানজনক বেতন ছাড়া অতিরিক্ত কাজ নয়।'
কর্মীদের আরও দাবি, শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে প্রতিদিন তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও তাঁদের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টি বারবার উপেক্ষিত হচ্ছে। নিয়মিত কাজের চাপ বাড়লেও বেতন বৃদ্ধি, স্থায়ীকরণ কিংবা অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও ইতিবাচক পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। এমনকি সাম্প্রতিক বাজেটেও সাফাইকর্মীদের কল্যাণে কোনও উল্লেখযোগ্য ঘোষণা না থাকায় তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বেড়েছে।
বিক্ষোভকারীরা জানান, তাঁরা কাজ এড়িয়ে যেতে চান না। কিন্তু ন্যায্য পারিশ্রমিক ও মানবিক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত না করে অতিরিক্ত দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া হলে তা মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। দ্রুত বেতন বৃদ্ধি, অতিরিক্ত কাজের জন্য আলাদা পারিশ্রমিক এবং কর্মপরিবেশের উন্নতির দাবিতে তাঁরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চান।
এদিন বোরো ৭ অফিস চত্বরে একজোট হয়ে সাফাইকর্মীরা তাঁদের ক্ষোভ উগরে দেন এবং স্লোগানের মাধ্যমে দাবি আদায়ের বার্তা তুলে ধরেন। বিক্ষোভ ঘিরে এলাকায় কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনার সৃষ্টি হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল।
যদিও এই ঘটনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে সাফাইকর্মীদের ক্ষোভ দ্রুত প্রশমিত না হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে আসানসোল শহরের দৈনন্দিন পরিচ্ছন্নতা পরিষেবায়। ফলে একদিকে কর্মীদের ন্যায্য দাবি, অন্যদিকে নাগরিক পরিষেবা নির্বিঘ্ন রাখা—এই দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াই এখন প্রশাসনের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
June 25, 2026
Rating:

No comments: