জেলা সভাপতি পদে ফের নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিলেন তৃণমূল যুব নেতা নিয়োগ ঘিরে পশ্চিম বর্ধমানে তৃণমূলের অন্দরে বাড়ছে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জল্পনা
নিজস্ব সংবাদদাতা, আসানসোল -: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের অপ্রত্যাশিত পরাজয়ের পর থেকেই দলের অন্দরে অসন্তোষ, নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন এবং সাংগঠনিক টানাপোড়েন ক্রমশ প্রকাশ্যে আসছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোট-পরবর্তী সময়ে রাজ্যের শাসকদল এক গভীর সাংগঠনিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে।
নির্বাচনী ফলাফলের পর দলের একাধিক জনপ্রতিনিধি ও নেতার তরফে নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় সাংগঠনিক পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেয় দলীয় নেতৃত্ব। সেই প্রেক্ষিতেই পশ্চিম বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি হিসেবে ফের আস্থা রাখা হয় নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর উপর।
তবে এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসতেই দলের অন্দরে অসন্তোষের সুর আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কুলটির তৃণমূল যুব নেতা যতীন গুপ্ত তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি বিতর্কিত পোস্ট করেন। সেখানে তিনি লেখেন, "নিজের হিটলারশাহির কারণে যে নিজে তো হেরেছেই, গোটা জেলাকেও হারিয়ে দিল, সেই আবার জেলা সভাপতি! বাহ... বাহ... বাহ..."
যদিও পোস্টে সরাসরি কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি, রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, মন্তব্যটি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর পুনর্নিয়োগের বিরুদ্ধেই করা হয়েছে। পোস্টটি সামনে আসার পর থেকেই তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ঘটনা শুধু একজন নেতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ নয়, বরং নির্বাচনী পরাজয়ের পর দলের অন্দরে জমে থাকা অসন্তোষ ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বেরই বহিঃপ্রকাশ। একদিকে দলীয় নেতৃত্ব সংগঠনকে পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে, অন্যদিকে দলের অভ্যন্তরেই নেতৃত্ব নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
এখনও পর্যন্ত এই বিতর্ক নিয়ে জেলা নেতৃত্ব বা নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় যুব নেতার এই মন্তব্য পশ্চিম বর্ধমান তৃণমূলের অন্দরের অস্বস্তিকে আরও একবার প্রকাশ্যে এনে দিল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
June 18, 2026
Rating:
.jpg)
No comments: