জামুড়িয়া -: জামুড়িয়ার ইকড়া শিল্পাঞ্চলের একটি রেক কারখানার শ্রমিকের অকালমৃত্যুকে কেন্দ্র করে সোমবার তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। মৃত শ্রমিকের পরিবার, সহকর্মী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষতিপূরণ ও পরিবারের একজন সদস্যকে চাকরির দাবিতে বিক্ষোভে সামিল হন। কয়েক ঘণ্টার টানাপোড়েন ও আলোচনার পর অবশেষে মৃতের পরিবারের একজন আশ্রিতকে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস মেলায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
মৃত শ্রমিক রাজেশ রাম (৪১) দীর্ঘদিন ধরে ওই কারখানায় কর্মরত ছিলেন। পরিবারের অভিযোগ, কর্মস্থলের ধুলোবালি ও দূষিত পরিবেশে দীর্ঘ সময় কাজ করার ফলে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং ফুসফুসে গুরুতর সমস্যা দেখা দেয়। গত কয়েক মাস ধরে তিনি শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন বলেও পরিবারের দাবি।
রবিবার সকালে হঠাৎ তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে দ্রুত আসানসোলের কালীপাহাড়ি এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। শ্রমিকের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই পরিবার ও সহকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।
সোমবার সকালে মৃতের পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। তাঁদের দাবি ছিল, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যের মৃত্যুতে পরিবার গভীর আর্থিক সংকটে পড়েছে। তাই মানবিক কারণে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ এবং পরিবারের একজন সদস্যকে চাকরি দিতে হবে।
অভিযোগ, প্রাথমিকভাবে দাবিদাওয়া নিয়ে সন্তোষজনক সাড়া না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ পরিবার মৃতদেহ নিয়ে কারখানার প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান-বিক্ষোভ শুরু করে। কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা এই বিক্ষোভে কারখানার বাইরে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের ছড়ায়।
পরবর্তীতে কারখানা কর্তৃপক্ষ, শ্রমিক প্রতিনিধিদের এবং পরিবারের সদস্যদের মধ্যে দীর্ঘ বৈঠক হয়। বৈঠকে মৃত শ্রমিকের পরিবারের আর্থিক ও সামাজিক অবস্থার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হয়। শেষে মৃতের পরিবারের একজন আশ্রিত সদস্যকে চাকরি দেওয়ার বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষ সম্মতি জানায়। এরপরই বিক্ষোভকারীরা আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন।
ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিও তুলেছেন। তাঁদের মতে, শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার বিষয়টি অবহেলা করা হলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের দুঃখজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।
বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও রাজেশ রামের অকালপ্রয়াণে পরিবার, সহকর্মী এবং সমগ্র এলাকাজুড়ে শোকের আবহ বিরাজ করছে। একই সঙ্গে মৃতের পরিবার দ্রুত চাকরির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
June 08, 2026
Rating:

No comments: