রানীগঞ্জে ইসিএলের কড়া অভিযান অবৈধ দখলের অভিযোগে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল বিতর্কিত ভবন, রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা
নিজস্ব সংবাদদাতা, রানীগঞ্জ -: ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড (ইসিএল)-এর জমিতে কথিত অবৈধ দখল ও নির্মাণের বিরুদ্ধে ফের কড়া অবস্থান নিল সংস্থা। বৃহস্পতিবার রানীগঞ্জের চাপুই কোলিয়ারি এলাকায় ইসিএলের জমিতে নির্মিত একটি ভবন ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। স্থানীয় মহলে ভবনটি তৃণমূল কংগ্রেস নেতা বিনোদ নোনিয়ার কার্যালয় হিসেবে পরিচিত ছিল বলে দাবি করা হলেও, এ বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেস বা বিনোদ নোনিয়ার পক্ষ থেকে কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
ইসিএল সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই সংস্থার জমিতে বেআইনি দখল ও নির্মাণের অভিযোগ জমা পড়ছিল। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত এবং আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বৃহস্পতিবার সকালেই ইসিএলের আধিকারিকরা বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে উচ্ছেদ অভিযানে নামেন।
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন চাপুই কোলিয়ারি কর্তৃপক্ষ, ইসিএলের নিরাপত্তা বিভাগের আধিকারিকরা এবং রানীগঞ্জ থানার অধীন নিমচা পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশকর্মীরা। গোটা এলাকা পুলিশি নিরাপত্তায় ঘিরে ফেলা হয়, যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়।
প্রথমে ভবনের ভেতরে থাকা টেবিল, চেয়ার, সোফা, আলমারি-সহ বিভিন্ন আসবাবপত্র তালিকাভুক্ত করে সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর জেসিবি ও অন্যান্য ভারী যন্ত্রের সাহায্যে পরিকল্পিতভাবে ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুরো নির্মাণটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় কৌতূহলী মানুষের ভিড় জমে যায়। বহু মানুষ দূর থেকে দাঁড়িয়ে উচ্ছেদ অভিযান প্রত্যক্ষ করেন। তবে প্রশাসনের কড়া নজরদারির ফলে গোটা অভিযান শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয় এবং কোথাও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে, স্থানীয় বিজেপি নেতা সঞ্জয় রুইদাস দাবি করেন, ভেঙে ফেলা ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল কংগ্রেস নেতা বিনোদ নোনিয়ার অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। যদিও এই দাবির সত্যতা সম্পর্কে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইসিএল কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়েছে, সংস্থার জমিতে কোনও ধরনের অবৈধ দখল বা অনুমোদনহীন নির্মাণ কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। সংস্থার সম্পত্তি দখলমুক্ত করতে ভবিষ্যতেও একই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রানীগঞ্জে ইসিএলের এই পদক্ষেপকে শুধু একটি উচ্ছেদ অভিযান হিসেবেই নয়, বরং সরকারি ও রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার জমি দখলমুক্ত করার বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে, একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে ভবনটির নাম জড়িয়ে পড়ায় ঘটনাটি নতুন রাজনৈতিক বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছে। ফলে আগামী দিনে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়, সেদিকেই এখন নজর সবার।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
June 26, 2026
Rating:

No comments: