রানীগঞ্জে কথিত ধর্মান্তরণকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা, আস্থা ভবনে হানা ভিএইচপি-বজরং দলের; পুলিশের জিম্মায় কয়েকজন
নিজস্ব সংবাদদাতা, রানীগঞ্জ -: পশ্চিম বর্ধমানের রানীগঞ্জের এনএসবি রোড এলাকার একটি বেসরকারি ভবনকে ঘিরে রবিবার ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ‘আস্থা ভবন’ নামে পরিচিত ওই ভবনে কথিত ধর্মান্তরণের অভিযোগ উঠতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) ও বজরং দলের কর্মীরা। অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় রানীগঞ্জ থানার পুলিশ।
ভিএইচপি ও বজরং দলের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই ওই ভবনে দরিদ্র ও অসহায় মানুষদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ধর্মান্তরণের চেষ্টা চালানো হচ্ছিল। রবিবারও একই ধরনের একটি কর্মসূচি চলছিল বলে খবর পেয়ে সংগঠনের সদস্যরা সেখানে যান। তাঁদের দাবি, বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি উত্তেজিত হয়ে ওঠেন এবং সংগঠনের সদস্যদের হুমকিও দেওয়া হয়।
ঘটনার পরপরই পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিজেদের হেফাজতে নেয়। যদিও সরকারি ভাবে এখনও পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগের কথা জানানো হয়নি।
এদিকে, ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “যে ভবনে এই ধরনের কর্মসূচি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে, তার মালিকেরও জবাবদিহি থাকা উচিত। তিনি বলতে পারেন না যে, তাঁর ভবনে কী ধরনের অনুষ্ঠান হচ্ছে তা তিনি জানতেন না। ভবন ভাড়া দেওয়ার আগে বিষয়টি যাচাই করা মালিকের দায়িত্ব।”
বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতা রবি কেশরী বলেন, “গরিব মানুষের অসহায়তার সুযোগ নিয়ে ধর্মান্তরণের চেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অতীতে অনেক কিছু সহ্য করা হয়েছে, কিন্তু এখন আর এই ধরনের কার্যকলাপ বরদাস্ত করা হবে না। আমরা চাই প্রশাসন নিরপেক্ষ তদন্ত করুক এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনুক।”
অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আস্থা ভবনের মালিক দেবেন্দ্র সাও। তাঁর দাবি, প্রতি বছরের মতো এ বছরও একটি বিশেষ প্রার্থনা সভার জন্য ভবনটি ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। সেখানে কোনো ধর্মান্তরণের কার্যকলাপ চলছিল কি না, সে সম্পর্কে তাঁর কোনো ধারণা ছিল না। তিনি জানান, কিছু যুবক আপত্তি জানানোর পর ভবনের ম্যানেজারই পুলিশকে খবর দেন। ঘটনার সঙ্গে তাঁর বা ভবন কর্তৃপক্ষের কোনো যোগ নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। ধর্মীয় সংবেদনশীলতার সঙ্গে জড়িত এই অভিযোগ কতটা সত্য, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগের সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্তের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
June 21, 2026
Rating:

No comments: