নিজস্ব সংবাদদাতা, রানীগঞ্জ -: রানীগঞ্জের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও জনআস্থার অন্যতম প্রতীক ঐতিহাসিক রাজাবাঁধ পুকুরকে দখলমুক্ত করতে এবার আরও কঠোর অবস্থান নিলেন রানীগঞ্জের বিধায়ক পার্থ ঘোষ। পুকুরের জমিতে অবৈধভাবে নির্মাণকারী ও দখলদারদের উদ্দেশে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, স্বেচ্ছায় অবৈধ নির্মাণ সরিয়ে জমি খালি না করলে প্রশাসন আইন অনুযায়ী কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
বিধায়ক পার্থ ঘোষের এই দৃঢ় বার্তা ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজাবাঁধ সংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ উঠছিল, ঐতিহাসিক এই জলাশয়ের বিস্তীর্ণ অংশ ধীরে ধীরে অবৈধ দখল ও নির্মাণের কবলে পড়ছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই সম্প্রতি প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে রাজাবাঁধ এলাকা পরিদর্শন করেন বিধায়ক। পরিদর্শনে উঠে আসে একাধিক অনিয়ম ও দখলদারির চিত্র, যা নিয়ে তিনি প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দেন।
পার্থ ঘোষ বলেন, “রাজাবাঁধ শুধুমাত্র একটি পুকুর নয়, এটি রানীগঞ্জের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই জলাশয়কে রক্ষা করা আমাদের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। কোনওভাবেই এর জমি দখল বা ভরাট করে ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধি মেনে নেওয়া হবে না।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পুকুরের জমি ভরাট করে প্লট তৈরি এবং সেই জমি বিক্রির মতো গুরুতর অভিযোগ প্রশাসনের নজরে এসেছে। যাঁরা প্রতারণার শিকার হয়ে এমন জমি কিনেছেন, তাঁদের সামনে এসে লিখিত অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে আশ্বাস দিয়েছেন, অভিযোগকারীদের পরিচয় গোপন রেখে প্রশাসন প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
বিধায়কের বক্তব্যে স্পষ্ট, আগামী দিনে রাজাবাঁধকে ঘিরে বৃহত্তর প্রশাসনিক অভিযান শুরু হতে চলেছে। ইতিমধ্যেই দখল হওয়া জমির পরিমাণ, দখলদারদের পরিচয় এবং জমি ভরাটের নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে বলে সূত্রের খবর। প্রশাসনের নজরে থাকা প্রত্যেকটি অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মতে, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা ও দখলদারির কারণে রাজাবাঁধ তার অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়েছিল। ফলে বিধায়কের এই উদ্যোগ নতুন আশার সঞ্চার করেছে। তাঁদের দাবি, রাজাবাঁধকে সম্পূর্ণ দখলমুক্ত করে পুনরায় সংস্কার ও সৌন্দর্যায়ন করা হলে তা শুধু পরিবেশ রক্ষাতেই নয়, রানীগঞ্জের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
রাজাবাঁধকে ঘিরে প্রশাসনের আসন্ন অভিযানের দিকে এখন তাকিয়ে গোটা রানীগঞ্জ। দখলদারদের বিরুদ্ধে সত্যিই কি কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে, নাকি আগের মতোই সবকিছু থমকে যাবে— সেই প্রশ্নই এখন এলাকাজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে। তবে বিধায়ক পার্থ ঘোষের স্পষ্ট বার্তা, “রাজাবাঁধের এক ইঞ্চি জমিও অবৈধ দখলের হাতে ছেড়ে দেওয়া হবে না।”
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
June 09, 2026
Rating:

No comments: