নিজস্ব সংবাদদাতা, রানীগঞ্জ -: বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অবৈধ কয়লা ও বালু ব্যবসা নিয়ে যে রাজনৈতিক তরজা একসময় তুঙ্গে উঠেছিল, সেই বিতর্ক ফের নতুন করে সামনে এসেছে। জামুড়িয়ার চুরুলিয়ার অজয় নদী ঘাট এবং বাঁকুড়ার মেজিয়া এলাকার দামোদর নদী ঘাটে বালু উত্তোলন ও পরিবহনকে ঘিরে স্থানীয় মহলে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যদিও প্রশাসনের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও অনিয়মের সরকারি স্বীকৃতি মেলেনি, তবুও এলাকাজুড়ে এই নিয়ে জোর চর্চা চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কিছুদিন তুলনামূলকভাবে কার্যকলাপ কম থাকার পর ফের বিপুল পরিমাণে বালু পরিবহন শুরু হয়েছে। অভিযোগ, সরকারি অনুমোদিত খননের পাশাপাশি কোথাও কোথাও নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনাও ঘটছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় বালুবাহী ট্রাকের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং কিছু গাড়িতে অতিরিক্ত বালু বোঝাই করার অভিযোগ সামনে এসেছে। রানীগঞ্জের বল্লভপুর রোড দিয়ে প্রতিদিন বহু বালুভর্তি ট্রাক যাতায়াত করছে বলেও দাবি স্থানীয়দের একাংশের।
সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে মেজিয়ার দামোদর নদী ঘাটকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ, নদীর মাঝখানে অস্থায়ী বাঁধ তৈরি করে পোকলেন মেশিনের সাহায্যে গভীর থেকে বালু তোলা হচ্ছে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের কার্যকলাপ নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশগত ভারসাম্যের উপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এই অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশাসনের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
এদিকে, অবৈধ খনন ও পরিবহন সংক্রান্ত অভিযোগ সামনে আসায় প্রশাসনিক নজরদারি নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। যদিও গত কয়েক মাসে পুলিশ ও প্রশাসন অবৈধ কয়লা, বালু ব্যবসা এবং তোলাবাজির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযান চালিয়ে গ্রেফতারি করেছে, তবুও স্থানীয়দের একাংশের দাবি, কিছু এলাকায় এখনও অনিয়ম পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি।
এই প্রসঙ্গে আসানসোল দক্ষিণ গ্রামীণ বিজেপি মণ্ডল সভাপতি পরিমল মাঝি বলেন, মেজিয়া দামোদর নদী ঘাটে প্রশাসনিক অনুমতি নিয়ে একটি বেসরকারি সংস্থা বালু উত্তোলনের কাজ করছে। কিন্তু নদীর প্রাকৃতিক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত করে খনন হলে তা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর দাবি, যদি নদীর মাঝখানে বাঁধ তৈরি করে খনন বা ট্রাকে অতিরিক্ত বালু বোঝাইয়ের ঘটনা ঘটে থাকে, তবে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দপ্তর এবং জেলা প্রশাসনের নজরে আনা হবে। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে এলাকার মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে।
পরিমল মাঝির মতে, বর্তমানে দামোদর নদীর জলস্তর কম থাকার অন্যতম কারণ দুর্গাপুর ব্যারাজে চলমান রক্ষণাবেক্ষণের কাজ, যার ফলে মাইথন জলাধার থেকে জলের প্রবাহ কমেছে। এর প্রভাব নদীর বিভিন্ন অংশে পড়ছে।
দামোদর ও অজয় নদী ঘাটকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক আবারও খনিজ সম্পদ আহরণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে। একদিকে রাজস্ব আয় ও নির্মাণ শিল্পের চাহিদা, অন্যদিকে নদী ও পরিবেশ রক্ষার প্রয়োজনীয়তা— এই দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় কতটা বজায় রাখা হচ্ছে, তা নিয়ে এখন নজর রয়েছে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের।
তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলির বিষয়ে প্রশাসনের তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি। ফলে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং বাস্তব পরিস্থিতি স্পষ্ট করতে প্রশাসনিক অবস্থানের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে এলাকার মানুষ।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
June 15, 2026
Rating:

No comments: