নিজস্ব সংবাদদাতা, বারাবনি | ১০ জুন -: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলীয় সংগঠনকে মজবুত করতে এবং ‘সুযোগসন্ধানী রাজনীতি’র বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিতে বারাবনি ও সালানপুরে বিজেপির শুদ্ধিকরণ অভিযানে নতুন মাত্রা যোগ করলেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ রায়। অভিযোগ, ৪ মে-র পর যারা বিভিন্ন রাজনৈতিক সমীকরণের কারণে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন, তাঁদের চিহ্নিত করে প্রতীকীভাবে সবুজ আবির লাগিয়ে দল থেকে বিদায় জানানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনাকে ঘিরে বুধবার থেকেই বারাবনি ও সালানপুরের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। দলীয় সূত্রে দাবি, দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য লড়াই করে আসা কর্মীদের সম্মান রক্ষা এবং আদর্শনিষ্ঠ সংগঠন গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
অভিজিৎ রায়ের ঘনিষ্ঠ মহলের বক্তব্য, নির্বাচনের আগে ব্যক্তিগত স্বার্থে বা রাজনৈতিক সুবিধা লাভের উদ্দেশ্যে দলে আসা ব্যক্তিদের নিয়ে সংগঠনের ভিত দুর্বল হতে পারে। তাই প্রকৃত কর্মী ও সুযোগসন্ধানীদের মধ্যে স্পষ্ট বিভাজনরেখা টানতেই এই প্রতীকী কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পঞ্চায়েত ও লোকসভা নির্বাচনের পর পশ্চিম বর্ধমানের বারাবনি ও সালানপুর এলাকায় দলবদলের প্রবণতা বেড়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে অভিজিৎ রায়ের এই পদক্ষেপ শুধু সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তাও বহন করছে।
এদিকে বিজেপির একাংশের কর্মীরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, দলের আদর্শ ও নীতির প্রতি যারা নিষ্ঠাবান, তাঁদের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতেই এই ধরনের কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন ছিল। যদিও বিরোধী শিবির এই ঘটনাকে রাজনৈতিক নাটক বলে কটাক্ষ করতে শুরু করেছে।
সব মিলিয়ে, সবুজ আবিরকে কেন্দ্র করে বারাবনি-সালানপুরে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক। অভিজিৎ রায়ের এই ‘শুদ্ধিকরণ অভিযান’ আগামী দিনে স্থানীয় রাজনীতির সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলবে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
June 10, 2026
Rating:

No comments: