অজয় নদীর বালি ঘাটে উত্তেজনা, বিক্ষোভে বন্ধ খননকাজ — বিজেপির দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে লাঠিচার্জ, অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে সরগরম জামুড়িয়া
জামুড়িয়া -: অজয় নদীর বালি উত্তোলনকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হল জামুড়িয়ার কেন্দা ফাঁড়ি এলাকায়। সরকারি সংস্থার উদ্যোগে দরবাডাঙ্গা অজয় নদী ঘাটে বালি খনন শুরু হতেই বিজেপি সমর্থিত গ্রামবাসীদের প্রবল বিক্ষোভের মুখে কার্যত থমকে যায় সমগ্র প্রকল্প। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীকে হস্তক্ষেপ করতে হয় এবং পরে হালকা লাঠিচার্জও করতে হয় বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, মঙ্গলবার সকালে দরবাডাঙ্গা ঘাটে সরকারি নিয়ম মেনে বালি উত্তোলনের কাজ শুরু হয়। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই দরবাডাঙ্গা ও বাগডিয়া গ্রামের শতাধিক বাসিন্দা ঘাটে জড়ো হয়ে খননকাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি বন্ধ করে দেন। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, খননকার্যে তৃণমূল কংগ্রেস ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের মেশিন ও সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে। সেই কারণেই তাঁরা এই কাজের বিরোধিতায় সরব হন।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, সরকারি প্রকল্পের আড়ালে কোনও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কাজ করানো চলবে না। যতদিন না এই অভিযোগের সুরাহা হচ্ছে, ততদিন বালি উত্তোলনের কাজ বন্ধ রাখার হুঁশিয়ারিও দেন তাঁরা।
ঘটনার খবর পেয়ে কেন্দা ফাঁড়ির পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। যদিও গ্রামবাসীদের তীব্র প্রতিবাদের জেরে দিনের বেশিরভাগ সময়ই খননকাজ বন্ধ থাকে। ঘাটে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকে একাধিক ট্রাক ও ভারী যন্ত্রপাতি।
এদিকে বালি বোঝাই করতে না পেরে খালি হাতে ফিরে যাওয়া ট্রাকগুলিকে চিচুড়িয়া ডাঙ্গালপাড়া মুড়ি মিলের কাছে আটকে বিক্ষোভ দেখান বিজেপি সমর্থকরা। তাঁদের দাবি, অজয় নদীতে কোনওভাবেই অবৈধ বালি উত্তোলন বা বালি চুরি চলতে দেওয়া হবে না। বিজেপি সরকারের আমলে স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই আন্দোলন বলে দাবি করেন আন্দোলনকারীরা।
তবে ঘটনার মোড় ঘুরে যায় বিজেপির অন্দরেই। ট্রাক অবরোধ ঘিরে বিজেপির দুই গোষ্ঠীর মধ্যে প্রকাশ্যে দ্বন্দ্ব সামনে আসে। বিজেপির জামুড়িয়া মণ্ডল-২ সভাপতি রাহুল বাউরি ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবরোধ তুলে ট্রাক চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেন। অভিযোগ, এর কিছুক্ষণ পরেই আরএন কলোনি মোড়ে বিজেপির প্রাক্তন মণ্ডল সভাপতি গৌতম মণ্ডল ও তাঁর সমর্থকদের সঙ্গে অন্য একদল বিজেপি কর্মীর বচসা শুরু হয়, যা পরে হাতাহাতিতে গড়ায়।
পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠলে রাহুল বাউরি ও গৌতম মণ্ডল অনুগামীদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে ঘটনাস্থলে মোতায়েন আধাসামরিক বাহিনীকে হালকা লাঠিচার্জ করতে হয় বলে সূত্রের খবর।
এরপর দুই গোষ্ঠীর সমর্থকরা কেন্দা ফাঁড়িতে জড়ো হলে নতুন করে উত্তেজনার আশঙ্কা দেখা দেয়। তবে কেন্দা ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক মদন মোহন দত্তের তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয়।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষই কেন্দা ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। অজয় নদীর বালি খননকে ঘিরে রাজনৈতিক টানাপোড়েন, প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ এবং বিজেপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল— সব মিলিয়ে মঙ্গলবারের ঘটনায় সরগরম হয়ে উঠেছে জামুড়িয়ার রাজনৈতিক মহল। এখন নজর প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং বালি খনন প্রকল্পের ভবিষ্যতের দিকে।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
June 03, 2026
Rating:

No comments: