দামোদরের বুকে বাঁধ, পোকলেনে বালি উত্তোলনের অভিযোগ! বল্লভপুর ঘাটে ফের অবৈধ খনন নিয়ে সরব এলাকাবাসী, প্রশাসনের ভূমিকায় উঠছে প্রশ্ন
অভিযোগ আরও গুরুতর। নদীর স্বাভাবিক জলপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত করে মাঝনদীতে বাঁধ নির্মাণের ফলে দামোদরের প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন পরিবেশপ্রেমী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁদের দাবি, ভারী যন্ত্রের লাগাতার ব্যবহারে নদীর তলদেশের স্বাভাবিক গঠন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে নদীর অস্তিত্ব, জলপ্রবাহ এবং আশপাশের পরিবেশের উপর।
এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে রাজ্যের নগরোন্নয়ন ও পুর বিষয়ক মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল-এর সাম্প্রতিক মন্তব্য। গত শুক্রবার দুর্গাপুরে এক অনুষ্ঠানে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, সরকার অনুমোদিত নিয়ম মেনে এবং বৈধ চালানের ভিত্তিতে বালি উত্তোলনে কোনও বাধা নেই। তবে কোথাও নিয়ম ভঙ্গ, অবৈধ খনন বা যন্ত্রের মাধ্যমে বালি তোলার অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রশাসন অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
মন্ত্রী আরও জানান, জাতীয় সবুজ ট্রাইব্যুনাল (এনজিটি)-এর বিধি অনুযায়ী নদী থেকে জেসিবি, পোকলেন বা অন্য কোনও ভারী যন্ত্র দিয়ে বালি উত্তোলনের অনুমতি নেই। শুধুমাত্র শ্রমিকদের মাধ্যমে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতেই নদী থেকে বালি তোলা যায়। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট বালি ঘাট অবিলম্বে বন্ধ করে জেলা প্রশাসন ও জেলাশাসককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
তবে মন্ত্রীর এই কঠোর অবস্থানের পরও বাস্তব পরিস্থিতি যে ভিন্ন ছবি তুলে ধরছে, সেই অভিযোগই তুলছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, বিধানসভা নির্বাচনের পর কয়েকদিন অবৈধ বালি উত্তোলন বন্ধ থাকলেও বর্তমানে আবার প্রকাশ্যেই বিভিন্ন নদীঘাটে ভারী যন্ত্র ব্যবহার করে বালি তোলা হচ্ছে। অভিযোগের তালিকায় রয়েছে জামুড়িয়ার চুরুলিয়া অজয় নদীঘাট, রানীগঞ্জের বল্লভপুর দামোদর নদীঘাট এবং দুর্গাপুরের ওয়ারিয়া দামোদর নদীঘাট।
প্রসঙ্গত, বিধানসভা নির্বাচনের সময় কয়লা ও বালির কথিত অবৈধ কারবারকে অন্যতম বড় ইস্যু করেছিল বিজেপি। ক্ষমতায় এলে এই ধরনের সমস্ত অবৈধ ব্যবসার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল। ফলে বল্লভপুর ঘাটকে ঘিরে নতুন করে ওঠা অভিযোগের পর প্রশ্ন উঠছে—মন্ত্রী প্রশাসনিক কড়াকড়ির বার্তা দিলেও, বাস্তবে কি অবৈধ বালি উত্তোলনের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান অভিযান শুরু হবে? নাকি আগের মতোই অভিযোগের মাঝেই চলতে থাকবে এই কারবার?
এই বিষয়ে সরকারি প্রতিক্রিয়া জানার জন্য মেজিয়া বিএল অ্যান্ড এলআরও-র সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও, সংবাদ লেখা পর্যন্ত তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পক্ষ থেকে পরবর্তী সময়ে কোনও প্রতিক্রিয়া এলে তা গুরুত্ব সহকারে প্রকাশ করা হবে।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
June 28, 2026
Rating:

No comments: