মন্ত্রিসভায় বড় রদবদল, গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্বে নতুন মুখ পিএইচই ও পিডব্লিউডির দায়িত্ব পেলেন কুলটির বিধায়ক ডাঃ অজয় কুমার পোদ্দার
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা -: পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চার সৃষ্টি করে মন্ত্রিসভার বিভিন্ন দপ্তরে বড়সড় রদবদল করল রাজ্য সরকার। বুধবার (১০ জুন) নবান্নের তরফে জারি হওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রাজ্যপালের অনুমোদনের পর মন্ত্রীদের মধ্যে নতুন করে দপ্তর বণ্টন করা হয়েছে। প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং উন্নয়নমূলক কর্মসূচির গতি ত্বরান্বিত করতেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
নতুন দায়িত্ব বণ্টন অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাতে থাকছে স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দপ্তর, ভূমি ও ভূমি সংস্কার, উদ্বাস্তু ত্রাণ ও পুনর্বাসন, বিদ্যুৎ, তথ্য ও সংস্কৃতি, কর্মী ও প্রশাসনিক সংস্কারসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর। পাশাপাশি এখনও যেসব দপ্তরের দায়িত্ব বণ্টিত হয়নি, সেগুলিও আপাতত তাঁর অধীনেই থাকবে।
মন্ত্রিসভার নতুন বিন্যাসে নিশীথ প্রামাণিককে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন এবং জলসম্পদ অনুসন্ধান ও উন্নয়ন দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অগ্নিমিত্রা পল পেয়েছেন নগর উন্নয়ন ও পৌর বিষয়ক দপ্তর। অন্যদিকে জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়কে উচ্চশিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থ দপ্তরের গুরুদায়িত্ব সামলাবেন স্বপন দাশগুপ্ত।
তবে এই রদবদলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছেন কুলটির বিধায়ক ডাঃ অজয় কুমার পোদ্দার। তাঁকে রাজ্যের দুই গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর— জনস্বাস্থ্য কারিগরি (পিএইচই) এবং গণপূর্ত (পিডব্লিউডি)-র দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই দুই গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের দায়িত্ব পাওয়ার ফলে প্রশাসনের অন্দরে তাঁর গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পেল।
এছাড়াও ডাঃ শারদাবত মুখার্জিকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যবস্থার উন্নয়নে এই দপ্তরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।
শুধু মন্ত্রিসভাতেই নয়, স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়েছে। মালতি রাভা রায়, রাজেশ মাহাতা এবং ডাঃ ইন্দ্রনীল খানকে বিভিন্ন দপ্তরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই রদবদল শুধুমাত্র প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস নয়, আগামী দিনের রাজনৈতিক কৌশলেরও অংশ। রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে উন্নয়নের গতি বাড়ানো এবং প্রশাসনিক কার্যকারিতা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এখন নজর থাকবে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীরা তাঁদের নিজ নিজ দপ্তরে কত দ্রুত কাজের গতি বাড়াতে পারেন এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা কতটা পূরণ করতে সক্ষম হন তার উপর। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই রদবদল আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
June 10, 2026
Rating:

No comments: