নিজস্ব সংবাদদাতা, আসানসোল -: পশ্চিমবঙ্গের শিল্পাঞ্চল বার্নপুর এবং বাঁকুড়া জেলার বিহারীনাথ-সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকার মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের দীর্ঘদিনের দাবি ফের নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। দামোদর নদীর উপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের সম্ভাবনা ঘিরে এলাকাজুড়ে তৈরি হয়েছে আশার আবহ। রাজ্য বাজেটে এই বহুল প্রতীক্ষিত প্রকল্পের ঘোষণা হতে পারে বলে জল্পনা শুরু হওয়ায় সাধারণ মানুষ থেকে ব্যবসায়ী মহল— সকলের নজর এখন সরকারের দিকে।
বর্তমানে বার্নপুর ও বিহারীনাথ এলাকার মধ্যে যোগাযোগের প্রধান ভরসা প্রায় ৮০০ মিটার দীর্ঘ একটি অস্থায়ী বাঁশ ও কাঠের সেতু। বছরের অধিকাংশ সময় এই সেতু দিয়ে হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করলেও বর্ষা এলেই বাড়তি জলস্রোতের কারণে সেটি বন্ধ করে দিতে হয়। ফলে সাধারণ মানুষকে কয়েক কিলোমিটার ঘুরপথে যাতায়াত করতে হয়, যা সময় ও অর্থ— দুইয়েরই অপচয় ঘটায়।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, প্রতিদিন অসংখ্য শ্রমিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, সবজি ও মাছ বিক্রেতা এই পথ ব্যবহার করে বার্নপুর, আসানসোল এবং সংলগ্ন শিল্পাঞ্চলে পৌঁছান। প্রায় ২০ হাজারেরও বেশি মানুষের জীবিকা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই যোগাযোগ ব্যবস্থার উপর নির্ভরশীল। তাই স্থায়ী সেতু নির্মিত হলে শুধু যাতায়াতের সুবিধাই বাড়বে না, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও আসবে নতুন গতি।
সম্প্রতি দুর্গাপুরে অনুষ্ঠিত এক প্রাক-বাজেট বৈঠকে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী ড. স্বপন দাশগুপ্ত এবং নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এই প্রকল্প নিয়ে ইতিবাচক মনোভাবের ইঙ্গিত দেন। অগ্নিমিত্রা পালের বক্তব্য, বার্নপুর ও বাঁকুড়াকে যুক্ত করা এই সেতু ভবিষ্যতে শিল্প, ব্যবসা, কর্মসংস্থান এবং আঞ্চলিক উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে।
অন্যদিকে, বিহারীনাথ পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম জনপ্রিয় ধর্মীয় ও পর্যটন কেন্দ্র। বিশেষ করে শ্রাবণ মাসে হাজার হাজার ভক্ত এখানে পুজো দিতে আসেন। স্থায়ী সেতু নির্মিত হলে পর্যটন ক্ষেত্রেও ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটননির্ভর অর্থনীতির উপর।
দামোদরের উপর স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি অবশ্য নতুন নয়। প্রায় দুই দশক আগে এই প্রকল্পের ঘোষণা করা হলেও নানা কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি। পরবর্তীতে সমীক্ষা হলেও কাজ আর এগোয়নি। তবে বর্তমানে জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় সংগঠনগুলির ধারাবাহিক দাবির ফলে বিষয়টি আবার গুরুত্ব পেতে শুরু করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সেতুটি নির্মিত হলে বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা সরাসরি আসানসোল-বার্নপুর শিল্পাঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত হবে। পাশাপাশি পরিবহণ, বিনিয়োগ, ব্যবসা এবং কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। ফলে গোটা রাঢ়বঙ্গের অর্থনৈতিক মানচিত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে।
এখন রাজ্য বাজেটের ঘোষণার দিকেই তাকিয়ে রয়েছে দুই জেলার মানুষ। বহু বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে দামোদরের বুকে স্থায়ী সেতুর স্বপ্ন আদৌ বাস্তবের রূপ পায় কিনা, সেটাই দেখার।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
June 23, 2026
Rating:

No comments: