কারখানায় মৃত্যুফাঁদ! বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শ্রমিকের মৃত্যু, নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগে বিক্ষোভে উত্তাল আসানসোল
নিজস্ব সংবাদদাতা, আসানসোল -: শিল্পাঞ্চল আসানসোলে ফের শ্রমিক নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠে এল এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে। বাগবন্দি কালিপাহাড়ি এলাকার জিডিডি এস কশ্যপ প্রাইভেট লিমিটেড -এর কারখানায় কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হল ৩৮ বছর বয়সি শ্রমিক মান্না সাউয়ের। সোমবারের এই ঘটনায় গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। একই সঙ্গে ক্ষোভে ফেটে পড়েন সহকর্মী শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থা ও নিরাপত্তায় চরম গাফিলতির জেরেই অকালে প্রাণ হারাতে হল এক শ্রমিককে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার বৃষ্টির মধ্যেই কারখানার স্টিল ফার্নিচার বিভাগে কাজ চলছিল। অভিযোগ, সেই সময় কারখানার ভিতরে ছড়িয়ে থাকা খোলা বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে এসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন মান্না সাউ এবং আরও এক শ্রমিক। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় মান্না সাউয়ের। অপর শ্রমিক অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। মৃত শ্রমিক দীর্ঘদিন ধরে ওই কারখানায় কর্মরত ছিলেন এবং বাগবন্দি কালিপাহাড়ি এলাকারই বাসিন্দা।
ঘটনার পরই কারখানার শ্রমিকরা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলেন। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই কারখানার বিভিন্ন অংশে খোলা বৈদ্যুতিক তার পড়ে ছিল। বিষয়টি একাধিকবার কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশেই শ্রমিকদের কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছিল। শ্রমিকদের আরও অভিযোগ, সংস্থায় ইএসআই ও পিএফ-এর মতো আইনসিদ্ধ সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয় না। নির্ধারিত সময়ের তুলনায় বেশি সময় কাজ করিয়েও কম মজুরি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ তাঁদের।
এই মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়তেই মঙ্গলবার শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা মৃতদেহ কারখানার মূল ফটকের সামনে রেখে বিক্ষোভে সামিল হন। তাঁদের দাবি, মৃত শ্রমিকের পরিবারকে অবিলম্বে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং কারখানায় শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থায়ী ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
ঘটনার জেরে শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, নিরাপত্তা বিধি যথাযথভাবে মানা হলে কি এই দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব ছিল না? যদিও শ্রমিকদের তোলা অভিযোগের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কারখানা কর্তৃপক্ষের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তদন্তের রিপোর্টের দিকেই এখন তাকিয়ে মৃত শ্রমিকের পরিবার, সহকর্মী এবং এলাকার মানুষ।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
June 30, 2026
Rating:

No comments: