হরেরামের কার্যালয়ে ত্রাণ সামগ্রীর পাহাড়! কম্বল, শাড়ি, ত্রিপল উদ্ধারে তোলপাড় জামুড়িয়া, তদন্তে পুলিশ
জামুড়িয়া -: জামুড়িয়া বিধানসভা এলাকার প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক হরেরাম সিংয়ের বিধায়ক কার্যালয় থেকে বিপুল পরিমাণ কম্বল, শাড়ি ও ত্রিপল উদ্ধারের ঘটনাকে ঘিরে শুক্রবার সন্ধ্যায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ, সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ সরকারি ত্রাণ সামগ্রী দীর্ঘদিন ধরে কার্যালয়ে মজুত করে রাখা হয়েছিল। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ে এবং ঘটনাস্থলে ভিড় জমাতে শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে খবর, কার্যালয়ের ভিতরে বস্তাবন্দী অবস্থায় থরে থরে সাজানো ছিল বিপুল পরিমাণ কম্বল, শাড়ি ও ত্রিপল। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গোটা কার্যালয়ে তল্লাশি চালায় এবং উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর উৎস ও প্রকৃতি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি। আসানসোল সাংগঠনিক জেলার বিজেপির সাধারণ সম্পাদক রানা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, উদ্ধার হওয়া সামগ্রীগুলি সরকারি প্রকল্পের আওতায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বিতরণের জন্য বরাদ্দ ছিল। তাঁর অভিযোগ, প্রকৃত উপভোক্তাদের হাতে পৌঁছানোর বদলে সেই সামগ্রী একটি রাজনৈতিক কার্যালয়ে মজুত রাখা হয়েছে।
রানা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “মানুষের করের টাকায় কেনা ত্রাণ সামগ্রী গরিব ও অসহায় মানুষের হাতে পৌঁছানোর কথা। অথচ সেই কম্বল, শাড়ি ও ত্রিপল প্রাক্তন বিধায়কের কার্যালয়ে বস্তাবন্দী অবস্থায় পড়ে রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। নিরপেক্ষ তদন্ত হলে আরও বড় তথ্য সামনে আসতে পারে।”
ঘটনার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে প্রাক্তন বিধায়ক হরেরাম সিং বা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে খবর লেখা পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর প্রকৃত উৎস, মজুত রাখার কারণ এবং এগুলি সরকারি প্রকল্পের অংশ কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদিও এখনও পর্যন্ত প্রশাসনের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।
সরকারি ত্রাণ সামগ্রী উদ্ধারের এই ঘটনাকে ঘিরে জামুড়িয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। তদন্তের অগ্রগতির দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
June 05, 2026
Rating:


No comments: