নিজস্ব সংবাদদাতা, রানীগঞ্জ -: রেলের জমি পুনর্দখল ও উচ্ছেদ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে ফের উদ্বেগের আবহ রানীগঞ্জে। রানীগঞ্জ থানার অন্তর্গত গির্জাপাড়া এলাকার লায়েকবাঁধে রেল কর্তৃপক্ষ জমি খালি করার নোটিশ জারি করতেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে বহু বছর ধরে বসবাসকারী শতাধিক পরিবারের মধ্যে। মাথার উপর থেকে বসতভিটা হারানোর আশঙ্কায় অনিশ্চয়তার দিন গুনছেন এলাকার বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, পুনর্বাসনের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ছাড়া উচ্ছেদ মানবিক নয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একসময় এই জমি বার্ন স্ট্যান্ডার্ড কোম্পানির অধীনে ছিল। পরবর্তীকালে সংস্থার সম্পত্তি ভারতীয় রেলের অধীনে চলে আসার পর ওই জমির দখল নিয়ে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া শুরু করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। সেই নোটিশ ঘিরেই চাঞ্চল্য ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত লায়েকবাঁধে পৌঁছে যান রানীগঞ্জের বিজেপি বিধায়ক পার্থ ঘোষ। তাঁর সঙ্গে ছিলেন দলীয় নেতা-কর্মীরাও। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সঙ্গে কথা বলেন, তাঁদের বক্তব্য শোনেন এবং গোটা এলাকা ঘুরে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন।
এলাকাবাসীকে আশ্বস্ত করে পার্থ ঘোষ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী মানুষদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে কোনওভাবেই উচ্ছেদ করা উচিত নয়। তিনি জানান, বিষয়টি রেল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের স্বার্থ রক্ষার জন্য তিনি উদ্যোগ নেবেন। প্রয়োজনে এই বিষয়টি উচ্চস্তরেও তুলে ধরা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
বিধায়ক বলেন, "এখানে বসবাসকারী মানুষের অধিকার রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। যথাযথ পুনর্বাসন ও বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা ছাড়া কাউকে উচ্ছেদ করা উচিত নয়। আমরা শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের পাশে থাকব এবং তাঁদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের লড়াই চালিয়ে যাব।"
বিধায়কের আশ্বাসে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও এখনও অনিশ্চয়তার মেঘ কাটেনি। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, তাঁরা উন্নয়নের বিরোধী নন, কিন্তু বহু বছর ধরে গড়ে ওঠা বসতি ভেঙে দেওয়ার আগে সরকার ও রেল কর্তৃপক্ষের উচিত মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে পুনর্বাসন এবং উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা।
এখন সকলের নজর রেল প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে। উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার আগে পুনর্বাসনের রূপরেখা ঘোষণা করা হয় কি না, সেটাই হয়ে উঠেছে এলাকার সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
June 28, 2026
Rating:

No comments: