প্রস্তাবিত বাজেটে রাস্তা, নিকাশি ও আলোকসজ্জা খাতে বড় অঙ্কের বরাদ্দ রাখা হয়েছে। রাস্তা নির্মাণ ও মেরামতের জন্য ৮৭.৮৭ কোটি টাকা, নিকাশি ব্যবস্থার উন্নয়নে ৩২.৩৯ কোটি টাকা এবং স্ট্রিট লাইট ও আলোকসজ্জায় ২৮.৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে। পাশাপাশি জল সরবরাহ প্রকল্পে ৩০.৪০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রয়েছে। নগর নিগমের দাবি, দীর্ঘদিনের খারাপ রাস্তা ও জল জমার সমস্যার স্থায়ী সমাধানে এই উদ্যোগ কার্যকর হবে।
ওয়ার্ডভিত্তিক উন্নয়নে গুরুত্ব দিয়ে ‘আমার পাড়া, আমার সমাধান’ প্রকল্পে প্রায় ১০২.৯১ কোটি টাকা ব্যয়ের উল্লেখ রয়েছে। সিভিল ও বৈদ্যুতিক অবকাঠামোর উন্নয়নের মাধ্যমে স্থানীয় সমস্যার দ্রুত নিষ্পত্তিই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
পরিবেশ রক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ হিসেবে গ্রিন বিল্ডিং নীতির প্রস্তাব আনা হয়েছে। শক্তি সাশ্রয়ী নকশা, বৃষ্টির জল সংরক্ষণ ও সৌরশক্তি ব্যবহারের মতো পরিবেশবান্ধব বৈশিষ্ট্য থাকলে সংশ্লিষ্ট ভবনকে ন্যূনতম ১০ শতাংশ করছাড় দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। একইসঙ্গে শহরের বিপজ্জনক ও জরাজীর্ণ বাড়ি চিহ্নিত করে ভেঙে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। ওই স্থানে নতুন নির্মাণে সাইট প্ল্যান ফিতে ২০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রেও একাধিক প্রকল্পে জোর দেওয়া হয়েছে। ন্যাশনাল সোশ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স স্কিমে প্রায় ২২ হাজার উপভোক্তা পেনশন পাচ্ছেন। ‘জয় বাংলা’ প্রকল্পে প্রবীণ, বিধবা ও বিশেষভাবে সক্ষম নাগরিকদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ক্যান্সার ও কিডনি রোগীদের আর্থিক অনুদান এবং ‘শিক্ষা মিত্র ডে মিল’ প্রকল্পে প্রায় ৯৯ হাজার পড়ুয়ার সুবিধা পাওয়ার কথাও বাজেটে উল্লেখ রয়েছে।
স্বাস্থ্য পরিষেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বর্তমানে চালু ২৬টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ৭টি আরবান হেলথ অ্যান্ড ওয়েলনেস সেন্টারের পাশাপাশি আরও ৩৩টি নতুন কেন্দ্র খোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধ, টিকাকরণ কর্মসূচি এবং মাতৃ-শিশু সেবায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতে মোবাইল মেডিক্যাল ইউনিট চালুর ভাবনাও রয়েছে।
নাগরিক পরিষেবা দ্রুত করতে বিল্ডিং প্ল্যান, মিউটেশন ও ট্রেড লাইসেন্সের ক্ষেত্রে ফাস্ট ট্র্যাক পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাতের যাত্রীদের সুবিধার্থে নাইট বাস পরিষেবা চালুর প্রস্তাবও বাজেটে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
পশু কল্যাণ ও পরিচ্ছন্নতায় পিপিপি মডেলে অ্যানিমাল শেল্টার ও চিকিৎসা কেন্দ্র গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সাফাই বিভাগে প্রায় ২৮০০ কর্মী এবং শতাধিক আবর্জনা সংগ্রহকারী গাড়ির মাধ্যমে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার দাবি করা হয়েছে। বর্জ্য পৃথকীকরণ ও ডোর-টু-ডোর সংগ্রহ আরও জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে ট্রেড লাইসেন্স, বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন, পার্কিং ফি ও বিজ্ঞাপন থেকে আয় বাড়ানোর কৌশল নেওয়া হয়েছে। অনলাইন পেমেন্ট ও ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বচ্ছতা বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
এখন নজর পুর পরিষদের অনুমোদনের দিকে। বাস্তবায়ন কত দ্রুত হয়, তার উপরই নির্ভর করবে এই বাজেট শহরের উন্নয়নের নতুন দিশা দেখাতে পারে কি না।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
March 02, 2026
Rating:

No comments: