নিজস্ব প্রতিনিধি, রানীগঞ্জ -: বর্তমান সময়ে যখন শিক্ষিত আদিবাসী সাঁওতাল সমাজের একাংশে সামাজিক বিয়ের রীতি-নীতিতে নানা পরিবর্তন ও বিকৃতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, ঠিক সেই সময় পশ্চিম বর্ধমান জেলার রানীগঞ্জ থানার জেমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত মুর্গাথোল বাঁধডাঙ্গা আদিবাসী গ্রামে এখনও অটুট রয়েছে তাদের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি। গ্রামের মাঝি-মড়লের নেতৃত্বে সমাজের নিয়ম মেনেই নতুন বর-কনেকে বিয়ের পিঁড়িতে বসানো হয় এবং সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানটি পরিচালিত হয় পূর্বপুরুষদের রীতি অনুসারে।
বিয়ের এই সামাজিক অনুষ্ঠানকে ঘিরে গ্রামে দেখা যায় ঐতিহ্যবাহী দং নাচের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা। গ্রামের মহিলারা সামাজিক গান গেয়ে নাচে অংশ নেন এবং যুবকেরা ধামসা ও মাদল বাজিয়ে নৃত্যের মাধ্যমে আনন্দে মেতে ওঠেন। পুরো গ্রাম জুড়ে তৈরি হয় উৎসবের পরিবেশ।
গ্রামের মাঝি-মড়ল স্পষ্ট ভাষায় জানান, “গ্রামের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি কোনোভাবেই ধ্বংস হতে দেওয়া যাবে না। আমাদের বিয়ে সামাজিক নিয়ম মেনে করতে হবে, যেভাবে আমাদের পূর্বপুরুষরা করে গেছেন।”
গ্রামের এক যুবক জানান, বর্তমানে অনেক সাঁওতাল গ্রামে বিয়ের অনুষ্ঠানে ডিজে বক্স বাজিয়ে আধুনিক নাচ-গানের প্রচলন বেড়েছে, যা তাদের প্রকৃত সামাজিক রীতি নয়। তিনি বলেন, “আমাদের সমাজে বিয়ের আনন্দের জন্য দং নাচের ঐতিহ্য রয়েছে। এতে মহিলারা সামাজিক গান গেয়ে নাচ করেন এবং যুবকেরা ধামসা-মাদল বাজিয়ে নাচে অংশ নেন। কিন্তু এখন অনেক জায়গায় ডিজে বক্সে ইচ্ছামতো নাচ হচ্ছে, যা আমাদের সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়।”
গ্রামের জকপারানিক রামলাল টুডু বলেন, “আমাদের গ্রামে সমস্ত অনুষ্ঠান সমাজের নিয়ম ও রীতি মেনেই করা হয়। যদিও কিছু সাঁওতাল গ্রামে সামাজিক অনুষ্ঠানে বিকৃতি দেখা যাচ্ছে, তবুও এখনও অনেক গ্রাম রয়েছে যেখানে ঐতিহ্য বজায় রয়েছে। যারা সমাজের ইতিহাস সম্পর্কে জানে না, তারাই এমন পরিবর্তনের দিকে যাচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, সমাজ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়লে ধীরে ধীরে সবাই নিজেদের মূল সংস্কৃতিতে ফিরে আসবে। এজন্য এলাকার মাঝি-মড়ল, গ্রামের সদস্য এবং বিভিন্ন আদিবাসী সংগঠনকে আরও সচেতনতা প্রচার চালাতে হবে, যাতে সাঁওতাল সমাজের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি অটুট থাকে।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
March 14, 2026
Rating:


No comments: