পাণ্ডবেশ্বর, পশ্চিম বর্ধমান / নিজস্ব সংবাদদাতা -: রামনবমীর আবহে পাণ্ডবেশ্বর যেন পরিণত হল রাজনৈতিক মহারণের মঞ্চে। লাউদোহা ফুটবল মাঠে জনসমুদ্রের সামনে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কার্যত যুদ্ধের ডাক দিয়ে দিলেন। তার কণ্ঠে ছিল স্পষ্ট চ্যালেঞ্জ, তীব্র আক্রমণ আর লড়াইয়ের আহ্বান—যা মুহূর্তে উস্কে দিল নির্বাচনী উত্তাপ।
হেলিকপ্টার থেকে নেমেই আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে মঞ্চে উঠে তিনি ঘোষণা করেন—“এই নির্বাচন কৌরব বনাম পাণ্ডবের লড়াই। আমরাই পাণ্ডব, ওরাই কৌরব।” এই এক বক্তব্যেই তিনি ভোটকে রূপ দিলেন নৈতিকতা বনাম অন্যায়ের সংঘর্ষে। সভামঞ্চে তার প্রতিটি বাক্যে ছিল আগ্রাসন, আর জনতার প্রতিক্রিয়ায় স্পষ্ট—লড়াইয়ের আবহ তৈরি হয়ে গেছে।
সাধারণ মানুষের জীবনের কেন্দ্রে থাকা গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধিকে হাতিয়ার করে কেন্দ্র সরকারকে কার্যত চাপে ফেলেন তিনি। “গ্যাস শেষ হয়ে গেলে বাড়ির মহিলারা কী করবেন?”—এই প্রশ্নে শুধু আক্ষেপ নয়, ছিল ক্ষোভের বিস্ফোরণ। তার অভিযোগ, নরেন্দ্র মোদী সরকারের আমলে রান্নার গ্যাসের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। একসময়ের ৪০০ টাকার সিলিন্ডার আজ ১১০০ থেকে ২১০০ টাকার ঘরে—এই তুলনা টেনেই তিনি কেন্দ্রের অর্থনৈতিক নীতিকে তীব্রভাবে আক্রমণ করেন।
ভোটার তালিকা নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করান মুখ্যমন্ত্রী। তার দাবি, লক্ষ লক্ষ বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ছে, অথচ নির্বাচন কমিশন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। তিনি দলীয় কর্মীদের স্পষ্ট নির্দেশ দেন—একজন ভোটারও যেন বাদ না পড়ে, প্রয়োজনে আইনি লড়াইয়ের পথে নামতে হবে।
প্রশাসনিক বদলি প্রসঙ্গেও তার বক্তব্য ছিল কটাক্ষে ভরা। “সব আধিকারিকই দক্ষ, কিন্তু শেষ কথা বলবে জনগণই”—এই মন্তব্যে তিনি ইঙ্গিত দেন, প্রশাসনিক কৌশল দিয়ে ভোটের ফলাফল বদলানো যাবে না।
সভামঞ্চ থেকেই আসানসোল, কুলটি, রানীগঞ্জ, জামুড়িয়া ও পাণ্ডবেশ্বরের তৃণমূল প্রার্থীদের পক্ষে সরাসরি ভোট চান তিনি। তার বক্তব্যে বারবার উঠে আসে—এই লড়াই শুধুমাত্র আসন জয়ের নয়, এটি অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রাম।
দুপুর প্রায় ১টা নাগাদ উত্তরবঙ্গ থেকে হেলিকপ্টারে সভাস্থলে পৌঁছন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অস্থায়ী হেলিপ্যাড ঘিরে কড়া নিরাপত্তা বলয় থাকলেও জনতার ঢল থামানো যায়নি। গোটা সভা পরিণত হয় শক্তি প্রদর্শনের বিশাল মঞ্চে, যেখানে প্রতিটি স্লোগান যেন ঘোষণা করছিল—লড়াই শুরু হয়ে গেছে।
পাণ্ডবেশ্বরের এই সভা থেকেই দক্ষিণবঙ্গে নির্বাচনী যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সূচনা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দিলেন—এবারের ভোটে সমঝোতার কোনও জায়গা নেই, এটি সরাসরি মুখোমুখি সংঘর্ষ। “কৌরব বনাম পাণ্ডব” বার্তার মধ্য দিয়ে তিনি যে চূড়ান্ত রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন, তাতে স্পষ্ট—বাংলার ভোট এবার হতে চলেছে হাইভোল্টেজ, তীব্র এবং ঐতিহাসিক।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
March 26, 2026
Rating:


No comments: